Sonajhuri Hat about to close: শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সোনাঝুরির হাট (Sonajhuri Haat)। খোয়াইয়ের পার জুড়ে বসে এই সোনাঝুরির হাট। সারা বছরই সোনাঝুরির হাটে পর্যটকদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় গ্রামবাসী ও হস্ত শিল্পীদের উদ্যোগে কুড়ি বছর আগে বনদপ্তরের জায়গায় এই হাট চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিদিন হাটে কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ স্থল এটি। তবে পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্রের জন্য ওই এলাকার জঙ্গল নষ্ট করা হচ্ছে।
পরিবেশপ্রেমীরা মনে করেছেন, চারচাকা গাড়ি, টোটো ঢোকা থেকে শুরু করে জঙ্গলে মাটি চুরি একের পর এক গাছ নষ্ট হয়েছে। বনদপ্তরের জায়গায় অবৈধ নির্মাণ, হোটেল রিসোর্টের ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। জঙ্গল বাঁচাতে এবার পিলার দিয়ে চিহ্নিতকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর।
বীরভূমের জেলার বনদপ্তরের আধিকারিক দেবাশীষ মহিমা প্রসাদ প্রধান জানান, “সোনাঝুরি হাটকে (Sonajhuri Haat) নিজেদের সীমানায় আয়ত্তের মধ্যে আনতে চলেছে বনদপ্তর। বন দফতরের অধীনে থাকা জমি চিহ্নিতকরণ ছাড়াও শীঘ্রই ১২১ কিলোমিটার জঙ্গলে পিলার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সীমানা সুরক্ষিত করতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। জীববৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখেই জঙ্গলের ক্ষতি কোনও ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”
বনদপ্তরের এই সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হস্তশিল্পী কুটীর শিল্পী আদিবাসী শিল্পীরা বেচাকেনার জন্য জঙ্গলের মধ্যে এই হাট বসিয়ে এসেছেন। হাটকে (Sonajhuri Haat) কেন্দ্র করে অনেক মহিলারা এই স্বনির্ভর হয়েছেন নতুন আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। তবে বনদপ্তরে এই জায়গাটি ঘিরে ফেললে সেখানে হাটের আর অস্তিত্ব মিলবে না। আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষজনেরা।
সোনাঝুরির হাট (Sonajhuri Haat) কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্র বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হস্তশিল্পী, কুটিরশিল্পী ও আদিবাসীশিল্পীরা বিকিকিনি উদ্দেশেই জঙ্গলের মধ্যে হাটে বসেন। হাটকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন সংলগ্ন স্থানীয় মহিলারা আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। বনদফতর জঙ্গলের সীমানা দিতেই পারে। রুটি রুজির প্রশ্নে হাটে বসা প্রায় ১৭০০ শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি না পড়লেই হল।’





