২০ বছর ধরে ৫ টাকা করে জমিয়ে বাইক কিনে শখ পূরণ সামান্য নাপিতের, বাইকে নিজের স্ত্রীকে চাপিয়ে বেড়িয়ে পড়েন ভ্রমণে

Ashok Pramanik fulfilled his wish: বিগত কুড়ি বছর ধরে প্রতিদিন ৫ টাকা করে জমিয়েছেন নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের এই ভদ্রলোক আর তারপর সেই জমানো টাকা একটা বাইক কিনে শেষ বয়সে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন ঘুরতে। কৃষ্ণনগরের শক্তিনগরের এই দম্পতি জীবনে ভালোবাসা থাকলে বয়সটা শুধুমাত্র সংখ্যা। অশোক প্রামাণিক (Ashok Pramanik) এবং তার স্ত্রী শিবানি প্রামাণিক জীবনের অনেক বছর তারা একসাথে কাটিয়ে ফেলেছেন।

অশোকবাবুর (Ashok Pramanik) চিরকালের স্বপ্ন ছিল একটা বাইক কেনার। সেই বাইকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে চাপিয়ে নিয়ে ঘুরতে বেরোনোর। একজন স্বামী হওয়ার পাশাপাশি অশোকবাবু একজন বাবাও, যিনি তার সন্তানদের কথা ভেবে কোনদিনও একটা ভালো জামা অবধি কিনে পড়েননি। সেই বাবা আর নিজের শখ পূরণের জন্য কিভাবে একটা মোটর বাইক কিনতে পারেন।

সময় ফুরিয়ে আসার আগে নিজের স্বপ্নগুলোকে পূরণ করা দরকারি (Ashok Pramanik fulfilled his wish)অশোক প্রামাণিক (Ashok Pramanik) পেশা একজন ক্ষৌরকার। কৃষ্ণনগর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটু সেলুন চালান অশোক বাবু। বিগত ৩০ বছর ধরে সেলুন চালিয়ে ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করেছেন। ইতিমধ্যেই তাদের বিয়েও দিয়ে দিয়েছেন। রোজ সকাল ৯ টায় অশোকবাবু (Ashok Pramanik) তার দোকান খোলেন। তারপর রাত নটা অব্দি একটা না চলে পরিশ্রম। এই সেলুনেই লক্ষ্মী নারায়ণের মূর্তির সামনে একটি ভাঁড় রেখেছেন তিনি। সেই ভাঁড়ে প্রতিদিন নিজের রোজগার থেকে পাঁচ টাকা করে জমান। বিগত ২০ বছর ধরে এটাই তার অভ্যাস।

পঞ্চাশোর্ধ এই দম্পতির এখন নাতি নাতনি নিয়ে ভরা সংসার। তারা চাইলেই ধর্ম কর্ম করে সংসার কাটিয়ে দিতে পারেন। অশোকবাবু (Ashok Pramanik) একটা সময় পয়সার অভাবে যেটা করতে পারেননি তাই এখন করে দেখাচ্ছেন তিনি। তার মাটির ভাঁড় ভেঙে জমানো পুঁজি থেকে কিনে ফেললেন একটা বাইক আর তারপরে ভালোভাবে বাইক চালানো শিখে স্ত্রী শিবানী দেবী কে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়লেন।

ইতিমধ্যেই অশোক বাবু তার স্ত্রীকে বাইকে চাপিয়ে নিয়ে ঘুরে এসেছেন শান্তিনিকেতন। গেছেন দার্জিলিংএও। শুধু তাই নয় বক্কেশ্বর, ম্যাসেঞ্জার বহু জায়গাতেই ইতিমধ্যেই ঘুরে এসেছেন এরা দুজনে। সম্প্রতি, তারাপীঠ, দীঘা ও ঘুরে এসেছেন। এখন অশোকবাবুর বাইকের পেছনে সর্বক্ষণের সঙ্গী স্ত্রী শিবানি দেবী (Ashok Pramanik fulfilled his wish)

অশোকবাবুর (Ashok Pramanik) রোজগার যেহেতু খুব বেশি নয় তাই বেশি দিন দোকান বন্ধ রেখে ঘোরা সম্ভব নয় তার পক্ষে। তাই বৃহস্পতিবার করে বেড়াতে যান অশোক বাবু। লক্ষ্মী বারে নিজের বাড়ির লক্ষ্মীকে নিয়ে কাক ভোরে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন অশোকবাবু (Ashok Pramanik)। আবার পরের দিন ভোরবেলা বাড়ি ফিরে আসেন দুজনে। এমন অনেক বাবা মা এদেরই অনেক স্বপ্ন বাকি রয়ে গেছে। সময় থাকতে থাকতে ঘুরিয়ে আনুন, স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করুন।

RELATED Articles