সম্পত্তি নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা লেগে থাকত, সেই কারণে আগেই তা দুই ছেলেকে ভাগ করে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ। কিন্তু বাকি যেটুকু পড়ে ছিল, সেটাও ছাড়তে রাজি নয় ছেলেরা। সেই নিয়েই ঝামেলায় বাবার মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে খু’ন করল দুই ছেলে। এরপর লা’শ গায়েবের চেষ্টাও করা হয়। এলাকাবাসী দেখে ফেলায় সেখান থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে বেহুলা আয়দা গ্রামে। মৃ’তের নাম মদন ঘোষ। বয়স ৬৮ বছর। ওই বৃদ্ধের দুই ছেলে সন্তু ও মন্টু। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাবার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি লেগে থাকত তাদের মধ্যে। সেই কারণে আগেই সম্পত্তি দুই ছেলের নামে অর্ধেক করে ভাগ করে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ। অল্প কিছু সম্পত্তিই ছিল নিজের নামে। সেটাও ছাড়তে রাজি নয় দুই ছেলে। সেটা নিয়েই মূলত অশান্তি।
জানা গিয়েছে, দুই ছেলেরই দোতলা বাড়ি রয়েছে। এদিকে ছেলেদের সর্বস্ব দিয়ে নিজের টিনের চালের ঘরে থাকতেন বাবা। সেই চাল দিয়ে আবার জল পড়ে। সেই কারণে ছেলেদের টিনের চাল কিনে দিতে বলেছিলেন বৃদ্ধ। তাই নিয়েই আজ, শনিবার সকালে ঝামেলা শুরু হয় বৃদ্ধ ও দুই ছেলের মধ্যে।
অভিযোগ, এদিন বারবার নিজের বাবাকে গা’লি’গা’লা’জ করতে থাকে দুই ছেলে। এক পর্যায়ে গিয়ে বাবার মাথায় ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করে এক ছেলে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মদনবাবু। বাবা মা’রা গিয়েছে ভেবে ট্রলিতে করে গঙ্গার ঘাটের দিকে মৃ’ত’দে’হ নিয়ে যেতে থাকে দুই ছেলে। তবে এর মধ্যেই জ্ঞান ফেরে বৃদ্ধের। এলাকাবাসীরা দেখে ফেলায় সেখানে বাবাকে ফেলেই চম্পট দেয় দুই ছেলে।
এদিকে স্থানীয়রা এসব দেখেশুনে খবর দেন বলাগড় থানায়। পুলিশ এসে বৃদ্ধকে নিয়ে যায় ব্লক হাসপাতালে। তবে সেখানে চিকিৎসকরা মদনবাবুকে মৃ’ত বলে ঘোষণা করেন। চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় দে’হটি ময়নাতদন্তের জন্য। দুই অভিযুক্তদের খোঁজ করছে পুলিশ।
এদিকে মৃতের ছোটো বৌমা রূপা ঘোষ বলেন,”আমি রান্না করছিলাম। টিন নিয়ে অশান্তি হচ্ছিল বাবার সঙ্গে স্বামী আর ভাসুরের। তারপর কী হল জানি না।ট্রলি ভ্যানে বাবাকে চাপিয়ে নিয়ে বলল হাসপাতালে যাচ্ছি”।





