‘ডু ইউ লাইক দিস?’, পুরুষ নার্সের গোপনাঙ্গ-নিতম্বে হাত, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, আর জি কর আবহেই সামনে এল সন্দীপের পুরনো কুকীর্তি

আর জি কাণ্ডের জেরে গোটা রাজ্য তথা দেশের তুমুল উত্তেজনা। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় গর্জে উথেহে সকল স্তরের মানুষ। আর জি করের আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এক পুরনো অভিযোগের ঘটনা সামনে এল। জানা যাচ্ছে, একবার নার্সের গোপনাঙ্গ ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় জেলও খাটতে হয়েছিল তাঁকে।  

২০১৭ সালের মে মাসে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। সেই সময় একটি চিকিৎসা-শিক্ষা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের জুন্য হংকংয়ের কাউলুন শহরে গিয়েছিলেন তিনি। সরকারি অনুমতি ছাড়াই সেই সফরে গিয়েছিলেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ। এর ফলে সন্দীপের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্সও হয়েছিল। যদিও পরে অবশ্য তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

অভিযোগ, ইয়াউ মা তেই-তে অবস্থিত কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালের এক পুরুষ নার্সকে যৌন নিগ্রহ করেছিলেন সন্দীপ ঘোষ। ওই নার্সিং পড়ুয়ার অভিযোগ ছিল, তাঁর পশ্চাতে চাপড় মেরে তাঁর গোপনাঙ্গ ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিলেন সন্দীপ। এরপর বলেছিলেন, ‘ডু ইউ লাইক দিস’? পড়ুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল হংকং পুলিশ। বেশ কিছুদিন জেলেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে, এমনটাই জানা যায়।

এই ঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। অভিযোগকারী নার্সিং পড়ুয়া বলেছিলেন, সন্দীপ ঘোষ নাকি একাধিকবার তাঁর হাত দিতেন। তাঁর নিতম্বে একাধিকবার হাত দিয়েছিলেন তিনি। একবার পোশাক বদলানোর সময় গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে সন্দীপ। তাঁর দাবী ছিল, শোল্ডার ডিসলোকেশনের কারণে তিনি ওই নার্সের কাছে গিয়েছিলেন। ভুলবশত তাঁর গায়ে হাত লেগে যায়। তিনি ইচ্ছা করে কিছু করেন নি বা তাঁর কোনও খারাপ মতলব ছিল না।

আরও পড়ুনঃ ‘একমাস তো হয়ে গেল, এবার উৎসবে ফিরুন…’, প্রতিবাদী জনতার মন ঘোরাতে নয়া কৌশল, দুর্গাপুজোয় মেতে ওঠার ডাক মমতার

সেই সময় সন্দীপের আইনজীবী দাবী করেছিলেন, ওই পুরুষ নার্স নাকি দেরি করেছিলেন। সেই কারণে নিজের দোষ ঢাকার জন্য তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন। যদিও তা মানতে রাজি হন নি ওই পুরুষ নার্স। হাসপাতালের এক চিকিৎসক যদিও বলেছিলেন যে সন্দীপের কাঁধের সমস্যা ছিল। কিন্তু সেই সমস্যা ধরা পড়ে এই যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার ২ সপ্তাহ পর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় সন্দীপের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এখন আর জি কর আবহে ফের সন্দীপের পুরনো এই কীর্তির কথা উঠতেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।   

RELATED Articles