তৃণমূলেই ফিরছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। অন্ততঃ এমনই শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। তবে তাঁকে যে তৃণমূলে ঢুকতে হলে মাথা নোয়াতেই হবে, সে কথাও বলছে ঘাসফুল শিবিরই।
গত বছর ১৪ই আগষ্ট তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। গেরুয়া খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন শোভনের বান্ধবী বৈশাখী চট্টোপাধ্যায়ও। দিল্লিতে সেদিন বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রায়দিঘির বিধায়ক তৃণমূলের দেবশ্রী রায়ও। দেবশ্রীকে দেখে বিজেপিতে যোগ দিতে বেঁকে বসেন শোভন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেবশ্রী পদ্মশিবিরে ভিড়লে তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন না। এর পরেই দেবশ্রীকে না নিয়ে শোভনকে দলে নেন বিজেপি নেতৃত্ব।
সেই শোভনই এবার বিজেপিকে ছেড়ে তৃণমূলে মাথা গুঁজতে চাইছেন বলে সূত্রের খবর। আর সেই যোগ স্থাপন করছেন তাঁর আদি-অকৃত্রিম বান্ধবী বৈশাখী। শোভন যদি তৃণমূলে যোগ দেন এবং ফের স্বমহিমায় ফেরেন, তার পুরো কৃতিত্বটাই দিতে হবে বৈশাখীকেই।
তবে শোভন দলে ফিরুন, চাইছেন না তৃণমূলের একটা বড় অংশই। এর প্রথম কারণ, দলনেত্রীর ভাই কানন ফের তাঁর প্রিয় দিদির কাছে ফিরলে অনেকে নিজেদের কাঙ্খিত অনেককিছুই হারাতে পারেন।
দ্বিতীয় কারণ, দেবশ্রী বিজেপিতে গেলে তিনি যাবেন না বলেছিলেন। দেবশ্রী যখন তৃণমূলেই রয়েছেন, তখন শোভন কীভাবে ঘাসফুল শিবিরে ফিরবেন?
সর্বোপরি, তাঁর স্ত্রী রত্না সবুজ শিবিরে আছেন এবং তিনি শোভনের চোখের বালি হয়ে উঠেছেন, সেই রত্নার সঙ্গেই বা কীভাবে একসাথে বসবেন দলের কোনও বৈঠকে? তৃণমূলের অন্য একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই শোভনকে মাথা নিচু করে ফিরতে হবে তৃণমূলে। রাজনীতি ছাড়া শোভন হাঁফিয়ে উঠবেন। আর ফিরতে হলে আপস করেই রাজনীতিতে ফিরতে হবে তাঁকে এবং সেটা তৃণমূলেই, দাবি তৃণমূলের একাংশের।
১৪ই আগষ্ট যে দলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রাজনৈতিক জীবনের, এখন পুনরায় এই খাতেই বইতে হবে শোভনকে!
একেই কি কপালের ফের!





