ঠিক লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে নিয়ে বাড়ল জল্পনা। ফের কী তিনি দলবদল করতে চলেছেন, এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু কানাঘুষো। সম্প্রতি বিজেপি নেতার এমন একটি ছবি সামনে এসেছে যার থেকে তাঁর এই দলবদলের জল্পনা উঁকি দিচ্ছে। আর তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে।
কী এমন ঘটনা ঘটল?
প্রয়াত কংগ্রেস নেতা তড়িৎ কুমার কোলের স্মৃতিতে গত শুক্রবার বাঁকুড়ার কোতুলপুর ব্লকের সিহড় এলাকায় একটি স্মরণসভা ও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয় কংগ্রেসের তরফে। এদিনের এই সভামঞ্চেই অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা যায় বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান চর্চা।
কী বললেন সৌমিত্র খাঁ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনও স্মরণসভায় যোগ দেওয়া মনেই দলবদল করা নয়। তবে দলবদলের জল্পনা যে একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজেপি নেতা নিজেই। সৌমিত্র খাঁ বলেন, “তড়িৎ কোলে দীর্ঘদিন এই এলাকার দাপুটে নেতা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আবার সম্পর্ক ভালো ছিল। তাই ওনার স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি রক্তদান শিবির ছিল। সেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এটা কোনও অন্যায় নয়”।
কংগ্রেসের কী বক্তব্য?
অন্যদিকে আবার বিজেপি সাংসদ যদি দলবদল করতে চান, তাহলে তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়েছে হাত শিবির। প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য দেবু চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, “এটা কোনও যোগদানের বিষয় নয়। সাংসদ হিসাবে সৌমিত্রবাবুকে স্বাগত। আর কেউ যদি যোগদান করতে চায় তাহলে স্বাগত”।
বলে রাখি, সৌমিত্র খাঁ-এর দলবদলের ইতিহাস বেশ বড়। প্রথমে ২০১১ সালে কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন সৌমিত্র। সে বছর বিষ্ণুপুর লোকসভা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হন তিনি। তবে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক বেশিদিন টেকে নি তাঁর। ২০১৯-এর লোকসভার আগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন ও ভোটে জিতে বিষ্ণুপুরের সাংসদ হন তিনি। এখনও সৌমিত্র খাঁ বিজেপিতে থাকলেও এই ঘটনায় ফের তাঁর দলবদলের জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবী, বিজেপিতে তেমন গুরুত্ব না পেয়ে দলবদলের কথা ভাবছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ।





