প্রায় ন’ বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্য জুড়ে বহু প্রতীক্ষিত এসএসসি (SSC) পরীক্ষা। সকাল থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ভিড় জমছে হাজার হাজার প্রার্থী। তবে পরীক্ষার এই দিনটি শুধু স্বপ্নপূরণের নয়, কারও কারও কাছে হতাশারও। যাঁরা যোগ্যতার ভিত্তিতে একসময় এই চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের আজও ফের বসতে হচ্ছে নতুন পরীক্ষায়। এই নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এক শিক্ষক।
নেওরা হাইস্কুলের শিক্ষক হুমায়ুন ফইরোজ সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এটা আসলে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। সরকারের দুর্নীতি আর বিচার ব্যবস্থার অবহেলার ফলেই আমাদের মতো যোগ্য মানুষদের ফের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। আমরা কেউ চাইনি আবার পরীক্ষা দিই, কিন্তু বাধ্য হচ্ছি।” তাঁর কথায়, ২০১৬ সালের সেই পরীক্ষা অনেক কষ্ট আর পরিশ্রম করে দিয়েছিলেন অসংখ্য প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের কাছে আজকের দিনটা কেবল কষ্টের।
হুমায়ুন আরও জানান, “চাকরিটা তো আসলে যায়নি। তবুও আজ আমাদের ফের পরীক্ষার দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। নয় বছর আগের মতো এখন আর স্ট্যামিনা নেই। উলটে মানসিক চাপ বেড়েছে অনেক গুণ। তবুও পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট ফুটে উঠছে যোগ্য শিক্ষকদের ক্ষোভ ও বেদনা।
২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য শেষবার পরীক্ষা হয়েছিল। তার পর কেটে গিয়েছে ৮ বছর ২৮০ দিন। অবশেষে আজ ফের অনুষ্ঠিত হচ্ছে নতুন পরীক্ষা। আজই বসছেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী, রাজ্যজুড়ে মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে। বাকি পরীক্ষার্থীরা বসবেন ১৪ সেপ্টেম্বর। মোট ৩৫ হাজার ৭২৬টি শূন্যপদে নিয়োগ হবে এবারের পরীক্ষা থেকে।
আরও পড়ুনঃ India US Relation : ট্রাম্প ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে তোপ দাগল মাস্কের এক্স, ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ!
এই শূন্যপদের মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য রয়েছে ২৩ হাজার ২১২টি পদ এবং একাদশ-দ্বাদশের জন্য ১২ হাজার ৫১৪টি পদ। শুধু তাই নয়, এবারে আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার এমন শিক্ষক-শিক্ষিকাও রয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই যোগ্য প্রমাণিত হলেও ফের বসছেন নতুন পরীক্ষায়। ফলে একদিকে যেমন লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থী আশা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন, অন্যদিকে অনেক যোগ্য শিক্ষক সেই একই পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।






