DA case : ডিএ নিয়ে ফের উত্তপ্ত রাজ্য-সরকারি কর্মী সংঘাত, নজরে ৪ অগস্টের সুপ্রিম কোর্ট শুনানি!

দিন যায়, কিন্তু সমস্যার সুরাহা নেই। একদিকে ক্রমেই বাড়ছে পকেটের চাপ, অন্যদিকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) না মেটানোয় তীব্র ক্ষোভে ফুটছে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেও রাজ্য সরকার DA না মেটানোয় ফের আইনি পথেই হাঁটলেন তাঁরা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা দায়ের করেছেন কর্মীদের একাংশ।

১৬ মে শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছিল, ছয় সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ কর্মীদের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে ২৭ জুনেই। কিন্তু অভিযোগ, আজও একটি টাকাও হাতে পাননি সরকারি কর্মীরা। তাই ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর তরফে সরাসরি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

রাজ্য সরকার অবশ্য আদালতের কাছে আগে থেকেই আবেদন জানিয়েছিল, বকেয়া মেটানোর জন্য আরও ছ’মাস সময় দেওয়া হোক। সরকারের দাবি, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকায় সেটি মেটাতে গেলে বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট হবে। এমনকী, ২৫ শতাংশ মেটাতে গেলেও প্রয়োজন ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেই টাকা এই অর্থবর্ষের বাজেটে রাখা হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়া নতুন করে ঋণ নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই বলেই জানিয়েছে রাজ্য।

রাজ্য আরও বলেছে, কেন্দ্রের মতো ডিএ দেওয়া তাদের বাধ্যতামূলক নয়। কারণ কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক কাঠামো ভিন্ন। রাজ্য ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী নিজস্ব নিয়মে ডিএ দেয়। তবে কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে যে ডিএ আইনসম্মত ও তার পরিমাণ নির্ধারণ আদালতের বিষয়। এখন শুধু এই সিদ্ধান্ত আসা বাকি যে, ডিএ আদৌ কর্মীদের মৌলিক অধিকার কি না।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : পতাকা ছাড়াই ৯ অগাস্ট ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক শুভেন্দুর, অভয়ার মৃত্যুর এক বছর পর ফের উত্তাল রাজপথে বিজেপি!

সরকারি কর্মীদের যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, ৪ অগস্টের শুনানিতেই হয়তো সুপ্রিম কোর্ট জানাবে, ডিএ মৌলিক অধিকার কি না। তিনি বলেন, “এই রায়ের দৃষ্টান্ত শুধু বাংলায় নয়, সারা দেশের কর্মীদের ভবিষ্যৎ গড়বে।” পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের প্রশ্ন, অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বেতন ফেরত নিতে সরকার যেখানে সময় নিচ্ছে, সেখানে প্রকৃত কর্মীদের প্রাপ্য আটকে রাখা কতটা ন্যায়সঙ্গত? এমন পরিস্থিতিতে আগামী শুনানিতে কী বলবে রাজ্য? এই প্রশ্নেই আপাতত আটকে উত্তেজনা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর