গরমের দাপটে হাঁসফাঁস অবস্থা! কিন্তু স্বস্তি কি মিলবে? কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আচমকাই বদলে যেতে পারে আবহাওয়া। আকাশে ঘন কালো মেঘ, তারপর শুরু হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি! মার্চ মাসের শেষদিকে এসে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল দক্ষিণবঙ্গ, কিন্তু আচমকাই প্রকৃতির রোষে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে আবহাওয়া। আগামী কয়েক ঘণ্টায় কী হতে চলেছে, তা নিয়েই বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
এপ্রিলের শুরুতে বর্ষার ছোঁয়া পাওয়ার আগেই কালবৈশাখীর দাপটে কাঁপবে বাংলা! এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে বৃষ্টি, কিন্তু আজ, শুক্রবার বিকেলের দিকেই আসতে পারে আসল ধাক্কা। ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা, কিন্তু ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর হবে এই দুর্যোগ? সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে গোটা দক্ষিণবঙ্গকে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হতে পারে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৩০ থেকে ৬০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে ঝড়ের বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি। অন্যদিকে, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের দিকে ঝড়ের গতিবেগ পৌঁছতে পারে ৫০-৬০ কিমি পর্যন্ত। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দোষীদের আড়াল করা হচ্ছিল? এতদিন পর তদন্তে গতি, আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়!
শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, উত্তরবঙ্গেও কালবৈশাখীর প্রভাব পড়তে চলেছে। শুক্রবার থেকেই উত্তরের আটটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ৩০-৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। তবে শনিবার থেকে এই ঝড়ের দাপট আরও বাড়তে পারে। আলিপুরদুয়ার, মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, তাই মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত কোনও ট্রলারকে সমুদ্রে নামতে দেওয়া হবে না। তবে শনিবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। নতুন করে ২৪ মার্চ পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ঢুকবে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পার্বত্য এলাকায়, যার প্রভাব বাংলাতেও পড়তে পারে। আপাতত তাপমাত্রা খানিকটা কমেছে, কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি কবে থামবে, সেটাই এখন দেখার!





