রাজ্যজুড়ে অরাজকতা, মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে, উঠল মমতার পদত্যাগের দাবীও, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার পথে এগোচ্ছে বাংলা?

রামপুরহাটে তৃণমূল নেতার খুন ও তৃণমূলের তাণ্ডবের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ওই এলাকা। এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে গোটা রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবী করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এমনকি, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার কথাও বলেন তিনি। এদিকে আবার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবী তুলেছেন। ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে সিট। রামপুরহাট থানার ওসি ও এসডিপিকে ক্লোজ করা হয়েছে।

আজ, মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই রাজ্য ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে। রাজ্যজুড়ে অরাজকতার শাসন চলছে। মুখ্যমন্ত্রী, যিনি পুলিশমন্ত্রীও বটে, বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। ১০ জনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হল। আর কথায় কথায় গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস! এই ব্যর্থতা মুখ্যমন্ত্রীর। আমার বারবার মনে হচ্ছে, এই রাজ্য ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে”।

অন্যদিকে আবার এই ঘটনায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য  বলেন, “মধ্যযুগীয় বর্বরতা ঘটেছে এখানে। আইনশৃঙ্খলা এই রাজ্যে ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা উচিত”।

এই ঘটনায় অবিলম্বে কেন্দ্রের হস্তক্ষপের দাবী জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।  এই বিষয়ে টুইট করে তিনি কন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তাঁর দফতর এবং রাজ্যপালকে ট্যাগ করেছেন। টুইটে তিনি অভিযোগ করেছেন যে ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল, সোমবার রামপুরহাটে খুন হন তৃণমূলও নেতা ভাদু শেখ। এরপরই সেখানে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব শুরু হয়। গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

RELATED Articles