মূল্যবৃদ্ধির জেরে পড়ুয়াদের পুষ্টিতে কাটছাঁট! মিড ডে মিলে ডিমই জুটছে না শিশুদের

দিনদিন মূল্যবৃদ্ধি যেন আরও মাথাচাড়া দিচ্ছে। বাজারদর যেন আগুন। শীতের সবজিতে হাত ছোঁয়াতেও ভয় পাচ্ছেন আমজনতা। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডিমের দামও। পোল্ট্রি ডিম, মুরগির ডিম বা হাঁসের ডিম, সবই যেন এখন দুর্মূল্য হচ্ছে দিনকে দিন। আর এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টিতে পড়ছে কাঁটা। মিড ডে মিলে ডিমই জুটছে না তাদের।

সম্প্রতি স্কুলের মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়িয়েছে কেন্দ্র। তবে সেই বরাদ্দ যৎসামান্য। আগে প্রি-প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ছিল ৫টাকা ৪৫ পয়সা। এখন বরাদ্দ ৭৪ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা ১৯ পয়সা। উচ্চ প্রাথমিক অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা। এখন তা ১ টাকা ১২ বয়সা বেড়ে হয়েছে ৯ টাকা ২৯ পয়সা। 

বাজারের নানান সবজির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিমের দাম। আজ, সোমবার কলকাতার বাজারে পোল্ট্রির ডিম বিক্রি হয়েছে আট টাকা পিস দরে। দেশি মুরগির ডিমের দাম, প্রতি পিস ১৫ টাকা পিস। হাঁসের ডিমের এক পিসের দাম ১৪ টাকা। এমন দাম ক্রেতাদের কাছে বড় অসুবিধের কারণ।

এমন যদি ডিমের দাম হয়, তাহলে বরাদ্দ টাকার মধ্যে কীভাবে পড়ুয়াদের ডিমের জোগান দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে চিন্তায় স্কুল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। বরাদ্দ বাড়ানোর পরও ঠিকমতো পুষ্টি দেওয়া যাচ্ছে না পড়ুয়াদের। গোটা ডিম পাতে পড়ছে না। কখনও ডিমের ভুজিয়া বা কখনও আবার অর্ধেক ডিম দিতে হচ্ছে পড়ুয়াদের পাতে, এমনটাই জানাচ্ছে স্কুল।

ডিমের দাম এখনই কমার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানালেন ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি মদনমোহন মাইতি। তাঁর কথায়, “মুরগির খাবারের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তবে উৎসবের মরসুমের ডিমের চাহিদা বাড়ছে। ফলে দাম কমলেও কমতে পারে”।

আরও পড়ুনঃ ‘রাত দখলের নামে নাচন-কোদন, বিরিয়ানি খাওয়া, নেশাভান করা চলছে’, বিরোধীদের শানাতে গিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের 

শুধুমাত্র ডিমই তো নয়, বেড়েছে আলু, পেঁয়াজের দামও। আলুরও দামও কমছে না। কোনও কোনও বাজারে জ্যোতি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। আবার কোনও বাজারে আলু বিকোচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি দরেও। চন্দ্রমুখী আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে। এর ফলে মিড ডে মিলে যে বেশ প্রভাব পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য!

RELATED Articles