এর আগেও তিনি জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের প্রতিবাদে যখন জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছিলেন, সেই সময় তাদের কটাক্ষ করেন তিনি। এবার ফের রাত দখলের কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র।
আর জি কর কাণ্ডের পর নারী নিরাপত্তার স্বার্থে অপরাজিতা বিল এনেছে রাজ্য সরকার। সেই বিলের সমর্থনেই গতকাল, রবিবার সোনারপুরে ধর্না কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। সেই রাত দখল কর্মসূচিতে যোগ দেন বিধায়ক লাভলি মৈত্র। আর সেখান থেকেই আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের রাত দখলের কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “কত বড় মূর্খ, ব্যানারটা যদি করিস ‘নাগরিক সমাজ’ একটু আলাদা কর, সেই লাল-কালো। সেই সিপিএমের আদল। সেই কমিউনিস্ট, মার্কসবাদী পার্টি। তাদের আদলে তৈরি করে বলছে নাগরিক সমাজের রাত দখল কর্মসূচি”।
লাভলি মৈত্রের কথায়, “সেই রাত দখলে কী হচ্ছে! গান বাজনা হচ্ছে। ছবি আঁকছে, গিটার বাজিয়ে গান গাইছে, নাটক করছে রাস্তায়, নাচ করছে, মানে নাচন, কোদন, গিটার, গান সব কিছু চলছে। তাদের লক্ষ্য কী, তিলোত্তমার না কি বিচার চাই! তিলোত্তমার বিচার নয়, তিলোত্তমার মা – বাবার কষ্ট – যন্ত্রণা, তাদের সন্তান হারানোর শোক, সেগুলো বাজারে বিক্রি করা, রাজনৈতিক মুনাফা তৈরি করা এবং তার সাথে নিজেদের একটু আনন্দ ফুর্তি করা”।
এখানেই শেষ নয়, এই রাত দখলের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া তরুণ-তরুণীদেরও আক্রমণ করেন লাভলি মৈত্র। বলেন, “এই যে বয় ফ্রেন্ড,গার্ল ফ্রেন্ড বলছে, ঠিকই তো সারারাত একসাথে থাকা যাবে, গান – বাজনা হবে, কিছু নেশা – ভান হবে, বিরিয়ানি খাওয়া হবে, ভালোই তো সারা রাতটা যদি এভাবে কাটে। তিলোত্তমা তো উল্লেখ্য মাত্র”।
আরও পড়ুনঃ ‘মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, সিমি-হুজির নেতাদের ভোটের টিকিট দেন ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে’, বিস্ফোরক দাবী বিজেপি নেতার
তৃণমূল বিধায়কের কথায়, তিলোত্তমার বিচারের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থে পথে নেমেছে লোকজন। একদল চাইছে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে আর অন্যদল ব্যক্তিগত স্বার্থে বলে দাবী লাভলির। তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নানান মহল থেকেই তৃণমূল বিধায়ককে কটাক্ষ করা হয়েছে।





