রোজকারনামচা থেকে একটু অন্যরকম হলে মন্দ কী! মিড ডে মিলে প্রতিদিনের ডাল-ভাতের পরিবর্তে এবার খুদেদের পাতে পড়ল পায়েস ও পিঠেপুলি। আর তা দেখে খুদেদের মুখে তো হাসি থামলই না। জমজমাটি এই আয়োজনে পেটপুরে পিঠে খেল পড়ুয়ারা। পিঠে-পায়েস চেখে দেখলেন শিক্ষক ও সরকারি আধিকারিকরাও।
কোথায় হল এমন আয়োজন?
এমন দারুণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল মন্তেশ্বরের জয়রামপুর ত্রিপল্লী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পৌষ মাস মানেই পিঠের মরশুম। কিন্তু মন্তেশ্বরের দিন আনা দিন খাওয়া অনেক পরিবারেরই সাধ থাকলেও সামর্থ্য হয় না পিঠে খাওয়ার। সেই কারণেই স্কুলের বাচ্চাদের কথা ভেবেই আয়োজন করা হয়েছিল পিঠেপুলি উৎসবের। এদিন চেটেপুটে ভাজা পিঠে ও নলেন গুঁড়ের পায়েস খেল ছোট্ট খুদেরা।
পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই রোজকার ভাত, ডাল, সয়াবিনের তরকারির বদলে মেনুতে এল পিঠে ও পায়েস। এই আনন্দে সামিল হন স্থানীয় বিডিও ও অবর বিদ্যালয়ের পরিদর্শকরাও। গতকাল, শুক্রবারের দিনটা একটু অন্যভাবেই কাটল মন্তেশ্বরের জয়রামপুর ত্রিপল্লী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের।
তবে এটাই প্রথমবার নয়, বাঙালির এই পরম্পরা, রীতির সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচয় করাতে ও এলাকার দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের পিঠের স্বাদ দিতে বিগত কয়েক বছর ধরেই পিঠেপুলি উৎসব পালন করা হয় এই স্কুলে, এমনটাই জানালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মধূসূদন চট্টোপাধ্যায়।
স্কুলের এই অভিনব উদ্যোগ দেখে বেশ আপ্লুত বিডিও সঞ্জয় দাস, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্রীপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা জানান, “মিড-ডে মিলে পিঠেপুলি, পায়েসের মত মেনুর আয়োজন, সঙ্গে সঙ্গে পড়ুয়াদের নিয়ে উৎসবের আয়োজন হয়। স্কুলের এই উদ্যোগ সত্যিই অভিনব”।
ছোটো ছোটো পড়ুয়াদের মুখে পিঠে তুলে দিতে পেরে দারুণ খুশি মিড ডে মিলের রাঁধুনিরাও। তারা জানান, চালের গুঁড়ো, খোয়া ক্ষীর, মুগ ডাল, রাঙা আলু, রিফাইন তেল দিয়ে তৈরি হয় ভাজা পিঠে। পিঠের ভেতরে থাকে নারকেলের পুর। ভাজা পিঠে ছাড়াও ছিল নলেন গুঁড়ের পায়েস। সকলেই স্কুলের এই দারুণ উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন।





