পরীক্ষার আগে বাদ দিয়েছে ডান হাত, মনের অদম্য ইচ্ছেতে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা, বাঁ-হাতে লিখেই মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ শুভজিৎ

মনের অদম্য ইচ্ছে থাকলে কোন প্রতিকূলতাই আপনাকে আটকাতে পারবেনা। আপনার জেদের বসেই আপনি কাজের সফল হতে পারবেন। আমরা অনেক সময় দেখেছি পরিবারের নানা সমস্যা, আর্থিক অনটন, না খেতে পেয়েও পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থী। তবে যদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আসে, কিভাবে মোকাবিলা করবেন নাকি হাল ছেড়ে দেবেন। মনের জোরের কাছে কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও টিকতে পারবে না। এমনই অদম্য মনের ইচ্ছে নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভজিৎ বিশ্বাস (Subhojit Biswas)

দশ বছর বয়সে সাইকেল চালাতে গিয়ে হঠাৎই পড়ে যায় শুভজিৎ (Subhojit Biswas)। ডান হাতে গুরুতরো আঘাত লাগে। তার বেশ কিছুদিন পরে ধরা পড়ে ক্যান্সার। ক্যান্সার মোকাবিলা করতেই কিছুদিন ব্যাঙ্গালোর থেকে চিকিৎসা চলে শুভজিতের। শুভজিতের শরীরে ৬ বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। বহুদিনের চিকিৎসার পর চিকিৎসকের জানান শুভজিৎ কে বাঁচাতে বাদ দিতে হবে তার হাত। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ছিল না, তাই চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই শুভজিৎ ফিরে আসে শান্তিপুরের বাড়িতে।

মাধ্যমিক পরীক্ষার কিছুদিন আগে কৃষ্ণনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হয় তার ডান হাত। তাতেও মনোবল হারিয়ে ফেলেন নি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বা হাতে লেখা অভ্যস্ত করেন শুভজিৎ (Subhojit Biswas)। বাঁ হাতে লিখে এই এবার সাফল্য পেয়েছেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নদিয়ার শান্তিপুরের হরিপুর অঞ্চলের বাসিন্দা শুভজিৎ বিশ্বাস। শুভজিৎ এর বাবা ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস কলকাতায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন।

শুভজিতের (Subhojit Biswas) বাড়ির আর্থিক অবস্থা তেমনটা নয়। বাড়িতে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। মাসির বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করে শুভজিৎ ‌। কিন্তু পরীক্ষার আগেই বাদ যায় তার ডান হাত। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বাঁ হাতে লেখার প্রচেষ্টা শুরু করে শুভজিৎ। ভেঙে পড়েন নি চেষ্টা চালিয়ে গেছে আর তাই আজ এত বড় সাফল্য তিনি পেয়েছেন। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা তার আগেই এত বড় প্রতিবন্ধকতা। যে হাত দিয়ে ছোটবেলা থেকে লিখে এসেছে সেই হাতটাই নেই, স্বাভাবিকভাবেই মানসিক অবসাদ ঘিরে ফেলার কথা। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নিজের জেদের কাছে হার মানিয়েছে প্রতিকূলতাকে। বাঁ হাতে লিখেই পাশ করেছে মাধ্যমিক। শুভজিতের সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার। ‌

শুভজিতের (Subhojit Biswas) বাবা জানিয়েছেন দীর্ঘ চার বছর ধরে ঠিকমতো ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পারতেন না। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে ডান হাত বাদ যায় ছেলের, ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। কিন্তু শুভজিতের ইচ্ছা মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে, রেজাল্ট যাই হোক না কেন শুভজিৎ পাশ করেছে এটাই বড় ব্যাপার। যে মাসির বাড়িতে থেকে শুভজিৎ পড়াশোনা করতেন তার কথায়, “ও পড়াশোনা করতে চাইছে। আমরা ওর পাশেই আছি। তবে পড়াশোনার খরচ চালানোর অবস্থা নেই। সরকার ছেলেটার পাশে দাঁড়ালে ভালো হবে।”

আরও অন্যান্য খবর