‘ধান্দাবাজ, গদ্দার সব…’, হারের ক্ষত এখনও দগদগে, হেরে যাওয়ার জন্য নিজের দলকেই দায়ী করলেন সুজাতা, উপনির্বাচনের আগে বিস্ফোরক তৃণমূল নেত্রী

চলতি লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন সুজাতা মণ্ডল। কিন্তু জিততে পারেননি তিনি। এবার নিজের হারের জন্য বিজেপি নয়, বরং তৃণমূলকেই দায়ী করলেন সুজাতা। তাঁর কথায়, দলের গদ্দারদের জন্যই তিনি হেরেছেন।

গত লোকসভা নির্বাচনে নানান আসনগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে লড়েন সুজাতা মণ্ডল আর অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী সৌমিত্র খাঁ। বেশ জোরদার টক্কর চলে সুই প্রার্থীর। তবে শেষমেশ ৫ হাজারের বেশি ভোটে সুজাতাকে হারান সৌমিত্র। সেই হারের কারণেই এবার তাই নিজের দলকে দুষলেন সুজাতা।  

গতকাল, সোমবার বাঁকুড়ার ইন্দাসে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান ছিল। তাতে যোগ দিয়েছিলেন সুজাতা মণ্ডল। সেই অনুষ্ঠান থেকেই নিজের হারের কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। বলেন, “মানুষের চরিত্র এমন হয়েছে, প্রার্থী যেই হোক, যদি তার পছন্দ না হয় তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছবিটা মনে আসে না। জোড়া ফুলটা মনে আসে না। তখন বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে রাতের অন্ধকারে বসে তারা কিন্তু সেটিংয়ের খেলা খেলে”।

খোঁচা দিয়েই তিনি বলেন, “আমি দলের কাছে ক্ষমা চাইছি। এই গদ্দারদের আমি অতিরিক্ত সম্মান দিয়েছিলাম। গদ্দারদের চিনেও ভেবেছিলাম মানুষের চরিত্র হয়তো সময়ের সঙ্গে বদলে যাবে। আমাদের দলের কিছু ধান্দাবাজ জালিয়াত যারা পদে আছে এবং একাধিক পদ ভোগ করছে বংশপরম্পরায়, বছরের পর বছর, তারা দলকে দেখে না । তারা দলকে হারানোর চেষ্টা করে”।

তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলাস্তরের পদাধিকারীদের একটা বড় অংশ যে নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থীর কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে দলের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন তা সবাই জেনে গিয়েছে। এখন তাঁরা ধরা পড়ে গিয়েছে। কিন্তু ওরা নির্লজ্জ”।

আরও পড়ুনঃ আচমকাই জেলের মধ্যে অসুস্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রেসিডেন্সি জেলে ছুটল এসএসকেএমের চিকিৎসকদের বিশেষ টিম

এভাবে দলের নেত্রীর এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয় তৃণমূলকে। দলের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগের কারণে বিড়ম্বনায় ঘাসফুল শিবির। তবে এই নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের আবার দাবী, তৃণমূল চোর, গদ্দার, চিটিংবাজ, ধর্ষকদের দল। মানুষের ভোটেই বিজেপি জিতেছে এখানে। এর সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।

RELATED Articles