রাত পোহালেই ভবানীপুরে উপনির্বাচন। এর আগেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। গতকাল, মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর আজ, বুধবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ভবানীপুর নির্বাচনে রিগিংয়ের আশঙ্কা উস্কে দেন তিনি।
এদিন তাঁকে বলতে শোনা যায় যে ভবানীপুরে রিগিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি যারা ভোট দিতে পারছেন না, তাদের ভোট যাতে অন্য কেউ না দিয়ে দেয়। তা কমিশনকে নিশ্চিত করার আবেদন জানান তিনি। বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির অনুরোধ ভবানীপুরের শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ যাতে ভোট দিতে পারেন।
ভবানীপুর উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “শাসক যখন ভয় পায় তখনই গণতন্ত্রে হিংসা জায়গা পায়। গণতন্ত্রে হিংসার কোনও জায়গা নেই। কিন্তু যখন মানুষ ভয় পায় তখনই তারা হিংস্র হয়। তাই ভবানীপুরের হিংসা দেখে আমরা আশাবাদী যদি ৬০-৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে তবে বিজেপি সেখানে জিতবে। কিন্তু আমরা সন্দেহে রয়েছি। যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে, তাতে উচ্চবিত্ত বা সম্পদশালী যে ভোটাররা রয়েছেন, তাঁরা কতটা ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের বহুতল থেকে নীচে নামবেন, সেই নিয়ে আমরা খানিকটা সন্দিহান। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরেকটু সক্রিয় হওয়া উচিত। তাঁদের ভোট কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করা উচিত”।
কমিশনের উদ্দেশ্যে সুকান্তর আরও আবেদন, “যেহেতু এই কেন্দ্রে বরাবর ভোটের হার কম থেকেছে, তাই দেখা উচিত যে ভোটগুলো যেন অন্য কেউ না দিয়ে দেয়, যদি অন্য কেউ ভোটগুলো দিয়ে দেয়, তবে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকব না, সে সম্ভাবনা আছে। আমাদের কাছে খবর আছে”।
তবে বিজেপির তরফে এই রিগিংয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তৃণমূল নেতা তাপস রায় বিজেপিকে পাল্টা কটাক্ষ শানিয়ে বলেন, “এটা সর্বৈব একটা মিথ্যা কথঅ্যা। বিজেপি আসলে সত্যি বলতে তো পারে না। গল্প, অসত্য এ সবেতেই অভ্যস্ত। এই সমস্ত কথার কোনও ভিত্তি পর্যন্ত নেই। এই দাবির সপক্ষে যদি কোনও প্রমাণ বিজেপি দেখাতে পারে, তবে জানাক না। ওদের তো জানানোর বহু জায়গা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ও তৃণমূলের ভবানীপুরে এসবের (রিগিং) কোনও দিন দরকার পড়েনি। কোনও দিন পড়বেও না”।
আরও পড়ুন- নবান্নে এসে মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তৃণমূলে যোগ দিলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো
তবে বিজেপি বা তৃণমূল, যে দলই যাই বলুক না কেন, ভবানীপুরে আদৌ ভোটের হার কেমন হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে দুই দলের মধ্যেই। কারণে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ভবানীপুরের কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনও জল জমে রয়েছে। তাই এই অবস্থায় এই জল ঠেলে আদৌ কত মানুষ ভোট দিতে জাবেন, তা নিয়ে সংশয় তো থেকেই যাচ্ছে।





