সম্প্রতি রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক নেতা ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রশ্নে চাপে পড়ছেন। শুভেন্দু অধিকারীর পর এবার বিতর্কে জড়ালেন আর এক বিজেপি শীর্ষ নেতা ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। এমন এক ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। শুরু হয়েছে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও।
রবিবার কলকাতার শ্রী গুরু সিং সভার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা এক ভিডিও ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁর হাতে রয়েছে হাওয়াই চপ্পলের একটি কাটআউট, যা তিনি ছুড়ে মারেন। সেটি উড়ে গিয়ে গিয়ে এক শিখ ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির পাগড়িতে লাগে ও মাটিতে পড়ে যায়। শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পাগড়ি যে কতটা পবিত্র, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ভিডিও সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে শিখ সংগঠন। রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা জানিয়েছেন, ‘‘সুকান্ত মজুমদার যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তাহলে আমরা রাজ্য জুড়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’’ এক প্রতিনিধি বলেন, ‘‘গতবার শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রতিবাদে টানা ৩৬ দিন আন্দোলন করেছি। এবারও আমরা প্রস্তুত।’’
এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই তুলনা করছেন গত বছরের ফেব্রুয়ারির ঘটনাটিকে, যেখানে সন্দেশখালিতে শিখ আইপিএস অফিসার যশপ্রীত সিংয়ের মাথার পাগড়ি দেখে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নাকি তাঁকে ‘খলিস্তানি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই মন্তব্য নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যশপ্রীত সিং সেই সময় প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন, “আমার মাথায় পাগড়ি দেখে খলিস্তানি বলছেন? এটা কেমন কথা?” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা শুভেন্দুকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছিলেন বলেও খবর।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ মামলা, কোটি টাকার খরচ! আলোচনায় বাঁচতে পারত রাজ্য, বলছেন মলয় মুখোপাধ্যায়!
রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে নজর রাখছেন। সুকান্ত মজুমদার এখনো প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে শিখ সংগঠনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয়, প্রয়োজনে আইনি পথেও হাঁটবেন। আগামী দিনে বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব সুকান্তকে কী বার্তা দেন, সেটাই এখন দেখার। কারণ, একাধিক ধর্মীয় বিতর্কের মাঝে পড়ে দলের ভাবমূর্তি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা নিয়ে নেতৃত্বও চিন্তিত।





