বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে। একের পর এক অত্যাচারের খবর সামনে আসছে, যেখানে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে এবং নানা রকম অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনীতিতেও বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক জগতে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি হিন্দুদের নিজেদের ধর্ম রক্ষার জন্য বাড়িতে ধারাল অস্ত্র রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সন্তানদের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়র বানানো জরুরি হলেও, তার আগে তাদের ভালো হিন্দু বানানো উচিত, যারা নিজেদের ধর্মের প্রতি সম্পৃক্ত থাকবে। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন বাড়তে থাকায় বিজেপি এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ধর্ম রক্ষা করা প্রত্যেকের অধিকার। যদি কেউ নিজের ধর্ম রক্ষা করতে না পারে, তবে ডাক্তার বা ব্যারিস্টার হওয়া সত্ত্বেও তার কিছুই হবে না।” তিনি আরও বলেন, হিন্দু সমাজ কাউকে আক্রমণ করতে যায় না, তবে আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। তার এই মন্তব্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে ধর্মীয় নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার প্রশ্নে তার অবস্থান নিয়ে বিতর্ক চলছে।
অন্যদিকে, এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি সুকান্ত মজুমদারকে কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী পদে থাকার যোগ্য না বলে মন্তব্য করেছেন। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য, একজন শিক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য আশা করা যায় না, যেখানে তিনি অস্ত্র রাখার কথা বলছেন। এই মন্তব্যের পরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়ে গেছে, এবং বিষয়টি শীঘ্রই কেন্দ্রীয় রাজনীতি পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের দীক্ষা কর্মসূচি! দুই ঘণ্টার মধ্যে বিজেপিতে ফেরত পঞ্চায়েত সদস্য
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা এবং সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি দলের বিভিন্ন নেতারা বার বার নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসছেন। বিশেষত, বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য রাজ্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও গরম করেছে। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, বিজেপি বাংলাদেশ ইস্যুকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।এখন দেখার বিষয় হল, সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং বিজেপির নির্বাচনী কৌশল কেমন হবে। দলের ভিতর এবং বাইরে এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া কেমন তা সময়ই বলে দেবে।





