জলপাইগুড়ি(Jalpaiguri) জেলার রাজগঞ্জ (Raiganj)ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবী চৌধুরানী সভাকক্ষে গত শনিবার বিকেলে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাজগঞ্জ ব্লক মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দীক্ষা কর্মসূচি নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছে। সেখানে তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতিতে এক বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপড়েন। কিন্তু ঘটনাটি যেদিকে গড়াল, তা সবকিছুকেই নতুন মোড় দিয়েছে।
রাজগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের উপস্থিতিতে, পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮/৯৭ ডাঙ্গাপাড়া বুথের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য কল্পনা বর্মণ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এ ঘটনাটি ছিল দলবদলের আগের ধ্বনি, যেখানে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তার যোগদানকে একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল। তবে ঘটনাটি যেভাবে এগিয়েছে তা রাজনৈতিক মহলে এখন হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মোড় নেয় একটি চমকপ্রদ আঘাত। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কল্পনা বর্মণ এবং বিজেপি জেলা কমিটির সদস্য দেবাশিস দে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, তাদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য জোর করা হয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে, মিটিংয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাদের ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। কল্পনা বলেন, “আমি তো তৃণমূলে যাইনি, বিজেপিতেই আছি। আমাকে একটা মিটিংয়ের নাম করে নিয়ে গেছিল। সেখানে যে এটা হবে ভাবতে পারিনি।”
এদিকে, তৃণমূলের রাজগঞ্জ ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে কল্পনা বর্মণ নিজেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার কথায়, “যতই বিজেপি অভিযোগ করুক, তাদের দুষ্কৃতকারীরা মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সকল অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা যাচাই করা হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘মেরে দিলাম!’ স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত সন্দেহে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে থানায় গেলেন স্বামী
এটি যে এক সাইডেড রাজনৈতিক নাটক ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন কল্পনা এবং তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য চোখে পড়ে। বিজেপির প্রতি তার আনুগত্য বজায় রেখেই রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগকে নাকচ করে দিয়েছেন কল্পনা বর্মণ, অন্যদিকে তৃণমূল নেতারা নিজেদের অবস্থান রক্ষা করার জন্য নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন। এখন অপেক্ষা রাজনৈতিক মহলের পরবর্তী পদক্ষেপের, যা এই রহস্যময় ঘটনাটির পরবর্তী মোড় তৈরি করবে।





