রাজনৈতিক মহলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইস্যুতে বিতর্ক লেগেই থাকে। বিরোধী দল শাসক দলের সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তোলে, আর শাসক দল তার পাল্টা জবাব দেয়। বাজেট প্রকাশের পর এ ধরনের বিতর্ক আরও বেশি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কখনও শিল্প, কখনও পরিকাঠামো, আবার কখনও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প—সব কিছুকেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। এবারের বাজেট প্রকাশের পরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের বার্ষিক বাজেট প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সরকার পক্ষ দাবি করেছে, এই বাজেট রাজ্যের সার্বিক উন্নতির দিকে নজর রেখে তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই বাজেটকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আক্রমণ করেছে। শিল্প, পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, এই বাজেটে সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন, শিল্প দফতরকে মাত্র ১,৪৭৭.৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, অথচ সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর পেয়েছে ৫,৬০২.২৯ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্রশিল্পের জন্য ১,২২৮.৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা সংখ্যালঘু দফতরের তুলনায় অনেকটাই কম। এছাড়া, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের জন্য ৮৬৬.২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সুকান্তর অভিযোগ, ভোটব্যাংকের রাজনীতি করতেই এই ধরনের বাজেট তৈরি করা হয়েছে এবং এতে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্র আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পঞ্চায়েত দফতরকে যে ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেটাও কি ধর্ম দেখে দেওয়া হয়েছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, শিক্ষাশ্রী বা রূপশ্রী প্রকল্পে সুবিধা পাওয়া মানুষের ক্ষেত্রে কি ধর্ম দেখে বরাদ্দ করা হয়?’ সংখ্যালঘু মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় বাজেট বরাদ্দ ৫৬ শতাংশ কমিয়ে ৬৮২ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অভিষেকের মতে, বিজেপি ধর্মের রাজনীতি করেই বাংলায় বারবার পরাজিত হয়েছে, আর ভবিষ্যতে তারা আরও কোণঠাসা হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ! শান্তির জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব!
এই বিতর্কের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাজেটের এই বিতর্কের মধ্যে সাধারণ মানুষ কোন দিক বেছে নেবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটা স্পষ্ট, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিতর্ক আরও বাড়বে।





