TMC: “দলে বিশ্বাসই নেই, তবে থাকব কেন?”প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে তীব্র ক্ষো*ভ, সুনীল সিংয়ের বিস্ফো*রক মন্তব্যে কি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, নোয়াপাড়ায় কি আসছে বড় চমক?

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে অস্বস্তির সুর ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। কোথাও ক্ষোভ, কোথাও বিদ্রোহ আর সেই আবহেই নোয়াপাড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে জোরালো হল বিতর্ক। প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, আর সেই প্রশ্ন এবার সরাসরি সামনে আনলেন প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং।

নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না সুনীল। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে দূরের একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে। এতে শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, দলের কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সুনীলের কথায়, “এলাকার মানুষ এখনও বলছে, বাইরের প্রার্থীকে তারা মেনে নেবে না।”

ক্ষোভ এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন চারবারের বিধায়ক মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করা হল না, কিংবা কেন মলয় ঘোষের মতো স্থানীয় নেতাদের সুযোগ দেওয়া হল না। তাঁর দাবি, নোয়াপাড়ায় এমন অনেক মুখ ছিল, যারা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাঁদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে অন্য জায়গা থেকে প্রার্থী আনা হয়েছে, যা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে পুরনো ক্ষতও যেন আবার সামনে চলে এসেছে। মঞ্জু বসু আগেই টিকিট না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ যে নতুন কিছু নয়, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সুনীলের মন্তব্যে সেই ক্ষোভই যেন আরও প্রকাশ্যে এল।

রাজনৈতিক মহলে অবশ্য সুনীল সিংয়ের অবস্থান নিয়েও জল্পনা কম নয়। তিনি অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতি এবং গত বছর তাঁর দলবদল নিয়েও জোর চর্চা হয়েছিল। এমনকি একবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ঘনিষ্ঠতা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এখন সুনীল নিজেই বলছেন, “দল যদি বিশ্বাস না করে, সেখানে থাকার মানে হয় না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নোয়াপাড়ায় শুধু প্রার্থী বিতর্কই নয়, আরও বড় কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে?

আরও অন্যান্য খবর