পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক মঞ্চে শনিবার এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত তৈরি হল, যখন সভার মাঝখানেই দলীয় প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। জামুড়িয়ার নির্বাচনী সভায় উপস্থিত জনতার সামনে এই বার্তা শুধু একটি ব্যক্তিগত সতর্কতা নয়, বরং দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিয়ম নিয়ে তাঁর অবস্থানকেও স্পষ্ট করে দিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এটি কি শুধুই একটি পারিবারিক ইস্যু, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা?
ঘটনার সূত্রপাত জামুড়িয়ার তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক হরেরাম সিংয়ের পরিবারকে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ থেকে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর ছেলে প্রেমপাল সিং প্রায়ই নিজের গাড়িতে লালবাতি বা নীলবাতি লাগিয়ে ঘোরেন, এমনকি জনবহুল এলাকায় হুটার বাজিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালান। এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলেই জানা যাচ্ছে। অভিযোগ আরও গুরুতর হয় যখন বলা হয়, তাঁর সঙ্গে অস্ত্রধারী নিরাপত্তারক্ষীও থাকে, যা অনেকের চোখে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’-এর ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষিতেই শনিবারের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি হরেরামকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছেলেকে বলবে, লালবাতি লাগানো গাড়ি যেন ব্যবহার না করে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষস্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক বছর আগেই রাজ্যে মন্ত্রীদের লালবাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে। সেই সিদ্ধান্তের পরেও যদি এই ধরনের ঘটনা সামনে আসে, তা দলের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারেএমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুনঃ TMC: “দলে বিশ্বাসই নেই, তবে থাকব কেন?”প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে তীব্র ক্ষো*ভ, সুনীল সিংয়ের বিস্ফো*রক মন্তব্যে কি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, নোয়াপাড়ায় কি আসছে বড় চমক?
তবে বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরেও প্রেমপাল সিংকে নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মন্ত্রী ওরাই বানায়, আমার মন্ত্রিপদ দরকার নেই, আমি শুরু থেকেই বিধায়ক।” যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীরা তীব্র কটাক্ষ শুরু করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, “বিধায়কের ছেলে নিজেকেই বিধায়ক ভাবছেন”, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী বলেই তাঁদের অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী হরেরাম সিং নিজেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দিদি যা বলেছেন, ঠিকই বলেছেন। ছেলের ড্রাইভিং একটু রাফ, সেটা দেখার কথা বলেছেন।” তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই তিনি পুরো বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর জন্য বিরোধীদেরও দায়ী করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত সতর্কতা নয় এটি নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি পরিষ্কার রাখার একটি কৌশলও হতে পারে। ফলে আগামী দিনে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





