এখনও কুসংস্কারের আঁধারে সমাজ! বধূকে ভূতে ধরেছে অপবাদ দিয়ে মহিলার চুল কেটে জলে ভাসিয়ে দিল পরিবার

শিক্ষিত হলেও এখনও কুসংস্কারের আঁধারে ডুবে রয়েছে বাংলার একাধিক গ্রাম। বাম সরকারের আমলে বর্ধমানকে পূর্ণ স্বাক্ষর জেলা বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পুঁথিগত শিক্ষা থাকলেই যে মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক হয় বা তাদের মন থেকে কুসংস্কারের কালিমা দূর হয়, এমনটা যে একেবারেই নয়, তা ফের প্রমাণ হল সম্প্রতি ঘটা এক ঘটনায়।

ডিজিটাল যুগে পৌঁছেও কুসংস্কার থেকে বের হতে পারছে না মানুষ। সেই উদাহরণ মিলল বর্ধমানের আউশগ্রামের কয়রাপুর গ্রামের তুড়িপাড়ায়। সেখানকার বাসিন্দা এক বছর পঁচিশের গৃহবধূ। জানা গিয়েছে, বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অস্থিরতা দেখা যাচ্ছিল তাঁর মধ্যে। অনিদ্রায় ভুগছিলেন ওই বধূ। তাতেই মহিলার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে যে ওই মহিলাকে ভূতে ধরেছে। আর তা না হলে ভগবানের ভর হয়েছে মহিলার উপর।

সেই ‘ভূত’ ছাড়াতে এক কালীমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলাকে। ওঝা ডেকে মন্ত্র আউরে ভূত ছাড়ানোর চেষ্টা চলে। এরপর নানান নিদান দেন পুরোহিত। পুরোহিতের সেই নিদানেই ওই বধূর চুলের বেশ কিছুটা কেটে নিয়ে তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। চুল ভাসিয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত ওই মহিলাকে বেঁধে রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে।  

কী জানাচ্ছে মহিলার পরিবার?

ওই মহিলার ভাসুর জানান, “ভূতে পেয়েছে বুঝতে পেরেছিলাম। ভয়ঙ্কর সব কথা বলছিল। ঠাকুরতলায় নিয়ে যাই। সব ঠিকও করে দেয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে কাজ হবে না। এটা তাবিজ কবজেই হবে। মাদুলি বেঁধে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। চুল কাটলেই ভূত চলে যায়। তাই চুল কেটে দেওয়া হল”।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের শহর বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “ওই মহিলার কোনও মানসিক সমস্যা থাকতে পারে। তাঁকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু তা না করে পরিবারের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে চুল কেটে নেয়। এভাবে কুসংস্কার আরও মাথাচাড়া দিচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ওই গ্রামে গিয়ে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবে বিজ্ঞান মঞ্চ”।

RELATED Articles