দুর্গা পুজো (Durga Puja) আসতে আর বেশি দেরি নেই। হাতে গোনা আর কয়েক দিনের অপেক্ষা মাত্র। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধারাবাহিকে মহালয়ার প্রোমো ইঙ্গিত দিচ্ছে মায়ের আগমনীর রব। বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই বাঁশ পড়ে গেছে আর প্যান্ডেল বানানোর কাজও শুরু হয়ে গেছে। তবে এই বছরের পুজোটা অন্যান্য বারের থেকে অন্যরকম। কারণ তিলোত্তমা। মানুষ এইবার ন্যায় বিচারের লড়াইতে নেমেছেন। তারা ‘বিচার চাই’ স্লোগানেই ঢেকে ফেলছেন মহানগরী কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের পথ।
কলকাতার দুর্গাপুজোর মধ্যে যেমন চটকদারি ব্যাপার থাকে তেমন কলকাতার মানুষ থেকে শুরু করে মফস্বলের সকল মানুষদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোগুলো। এই পুজো গুলো দেখতেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।কলকাতার একাধিক বনেদি বাড়ির মধ্যে মল্লিক বাড়ি অন্যতম। মল্লিক বাড়ির পুজো এইবার ১০০ বছরে পা রাখছে। তবে এই বছর মল্লিক বাড়ির এই পুজোতে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা অন্যান্য বারে কখনই নেওয়া হয়নি।
আসলে আর জি কর কাণ্ড ও তিলোত্তমার ভয়ংকর পরিণাম দেখে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারা যেমন ভয়ে শিউরে উঠেছেন, তেমনি এই আবহের মধ্যে মল্লিক বাড়ির পুজো নিয়েও তেমন আনন্দ নেই মল্লিকবাড়ির অন্দরে। একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এই কথাটি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোয়েল মল্লিক আরও বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে সেই পরিস্থিতির জন্য অন্যান্য বারের মতো এইবার দুর্গা পুজোর আনন্দটাই যেন মন থেকে আসছে না। কিন্তু যেহেতু এই বছর মল্লিক বাড়ির পুজো ১০০তম বছরে পা দেবে তাই যেটুকু করার সেটুকু করা হবে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, যেদিন থেকে আর জি কর কাণ্ড ও তিলোত্তমার ঘটনা ঘটেছে সেই দিন থেকে তিনি বিচারের প্রার্থনা করে চলেছেন। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মত কোয়েল মল্লিকও চান তিলোত্তমার ন্যায় বিচার। এই প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, এমন কিছু হতে হবে, যাতে আর কোনও মেয়ে তিলোত্তমার পরিচয় না পায় ভবিষ্যতে, যারা এই ব্যাপারে যুক্ত তাদের প্রত্যেকের যেন কঠোর শাস্তি হয়। নিজের বাড়ির পুজো সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, তাদের বাড়ির পুজোতে পৃথিবীর নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্মীয়রা একত্রিত হন।
এই বছর তিলোত্তমা আবহে মল্লিক বাড়ির পুজোয় সাধারণ মানুষরা আসতে পারবেন না। এইবার এই পুজোটিকে বাড়ির সদস্যের মধ্যেই আবদ্ধ রাখবেন তারা। ১০০ বছরের এই দুর্গাপুজো এবং তিলোত্তমার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সাফ বক্তব্য, “এবার এমন পরিস্থিতি যে যতটা আনন্দ করব ভেবেছিলাম, তা করা হবে না। মন থেকেই সেই আনন্দ আর আসছে না। তবে একটু হলেও আনন্দ করব। কারণ এই ১০০ বছরটা তো আর আসবে না। আমাদের অনেক আত্মীয়রা আছেন পৃথিবীর নানা জায়গায়। তাঁরাও আসবেন। এবার হয়তো আমরা পুজোটা প্রাইভেট রাখারই চেষ্টা করব। শুধু পরিবারের মধ্যে রাখব”।





