আর জি কর মামলার শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল সন্দীপ ঘোষের, প্রধান বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ

আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর রয়েছে আর জি কর মামলার শুনানি। এর আগেই শীর্ষ আদালতে মুখ পুড়ল সন্দীপের। আর জি করে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় করা তাঁর আর্জি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।

সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর জি করে আর্থিক তছরুপ, মেডিক্যাল বর্জ্য পাচার, মৃতদেহ নিয়ে ব্যবসা এমন নানান অভিযোগ করেন আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সন্দীপ ঘোষ।   

আজ, শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু এই মামলার আর্জি শুনেই তা খারিজ করে দিলেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “আপনি একজন অভিযুক্ত। জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট যখন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, তখন আপনার আপত্তি করার কোনও এক্তিয়ারই নেই”। বিচারপতির কথায়, একজন অভিযুক্ত কখনই ঠিক করতে পারেন না যে তদন্তের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে। সন্দীপের মামলার কোনও গুরুত্ব নেই জানিয়ে সেই মামলা খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি।

এদিন সন্দীপের আইনজীবী আদালতে জানান, কলকাতা হাইকোর্ট রায় ঘোষণার সময় বলেছে, হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সম্পর্ক থাকতে পারে। সন্দীপের আইনজীবীর কথায়, এখানেই তার মক্কেলের আপত্তি। কেন আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা জুড়ে দেওয়া হল, সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টে মামলার আবেদন জানিয়েছেন সন্দীপ ঘোষ।

এদিন এই কথা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এত উতলা হওয়ার কী আছে? এটা নিয়ে তো কোনও বিতর্ক নেই যে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময়ে আপনি (পড়ুন সন্দীপ ঘোষ) হাসপাতালের অধ্যক্ষ ছিলেন। সুতরাং তদন্তে আপত্তি কোথায়? ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের যোগ থাকতে বলে হাইকোর্ট তো একটা পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। কোনও রায় তো দেয় নি। তদন্ত করেই দেখা যাক”।

আরও পড়ুনঃ সন্দীপ সিবিআই হেফাজতে, এবার তাঁর দুয়ারে ইডি, আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আরও বড় বিপাকে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ 

এদিন সন্দীপের আইনজীবী এও দাবী করেন, আখতার আলিকে মুর্শিদাবাদ বদলি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, আখতার আলির কী উদ্দেশ্য রয়েছে না রয়েছে, তা বিচার্য বিষয় নয়। রাজ্য সরকার চাইলে আখতার আলির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে পারে। এখানে বিচার্য হল, আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কী না আর এর সঙ্গে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কী না!  

RELATED Articles