রাজ্যের ‘রেফার রোগের’ কারণে মার খেতে হয় চিকিৎসকদের, সুপ্রিম কোর্টে দাবী আইনজীবীর, কী নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত?

আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ছিল আর জি কর মামলার শুনানি। এদিন চতুর্থ স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রথমেই উঠে আসে আর জি কর মামলায় সিবিআইয়ের চার্জশিট পেশ করার বিষয়টি। এদিন রাজ্যের রেফার রোগ নিয়েও সওয়াল করা হয় শীর্ষ আদালতে। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।  

এদিন জুনিয়র চিকিৎসকদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং শীর্ষ আদালতে জানান, বেশিরভাগ সময় রাজ্যের ত্রুটিপূর্ণ রেফার রোগের কারণে চিকিৎসকদের জনরোষের মুখে পড়তে হয়। মারধর করা হয় চিকিৎসকদের। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রেই এক হাসপাতাল থেকে অন্য কোনও এমন হাসপাতালে রোগীদের রেফার করা হয়, যেখানে উপযুক্ত বেড থাকে না বা সংশ্লিষ্ট সেই রোগের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকে না।

আইনজীবীর কথায়, এই কারণে কোনও রোগীর মৃত্যু হলে তখন চিকিৎসকদের জনরোষের মুখে পড়তে হয়। মার খেতে হয় তাদের। ইন্দিরা জয়সিং এদিন দাবী করেন, রাজ্য যে সেন্ট্রাল রেফারেল সিস্টেম চালু করছে, তাতে রাজ্যকে নিশ্চিত করতে হবে যে রোগীদের সেই স্মত হাসপাতালেই রেফার করা হবে যেখানে সেই রোগের উপযুক্ত পরিকাঠামো ও বেড রয়েছে।

এদিন ইন্দিরা জয়সিংয়ের এই অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য যে ইন্টিগ্রেটেড হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে, তাতে সিস্টেম মনিটার করার ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইন প্রেসক্রিপশন, কোন হাসপাতালে কত বেড খালি রয়েছে, সেগুলোর রয়েল টাইম আপডেট থাকবে সেই সিস্টেমে। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, রোগীদের সেই সমস্ত হাসপাতালেই রেফার করা যাবে, যে সমস্ত হাসপাতালে বেড ফাঁকা রয়েছে বা উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকাঠামো রয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজ ১ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুনঃ কী যোগ্যতা সিভিক ভলান্টিয়ারদের? কোন আইন মেনে নিয়োগ হয় তাদের? হলফনামা দিয়ে জানানোর নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের, চাপের মুখে রাজ্য!

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার থেকে রাজ্য কেন্দ্রীয় রেফারেল সিস্টেম চালু করছে। এর ফলে রেফারেল ব্যবস্থা এবার থেকে পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে এবার থেকে স্পষ্টভাবে জানা যাবে, বর্তমানে কোন হাসপাতালে কতগুলি বেড ফাঁকা রয়েছে। এর ফলে বিভ্রান্তি কমবে। রোগীর পরিজনদেরও এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে দৌড়াতে হবে না।

RELATED Articles