পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে মোতায়েন করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন যে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল, তা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।
আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। এদিন সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির পর রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, রাজ্য সরকারও চায় যাতে পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এই কারণে পাঁচটি রাজ্য থেকে বাহিনী চাওয়া হয়েছে যাতে স্পর্শকাতর বুথে সেই বাহিনী মোতায়েন করা যায়।
একথা শুনে বিচারপতি বিভি নাগরত্ন প্রশ্ন করেন, “এর মানে আপনারাও স্বীকার করে নিচ্ছেন যে রাজ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী নেই। তাই অন্য রাজ্য থেকে বাহিনী চাইতে হচ্ছে আপনাদের। তার চেয়েও তো ভালো এক জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা। এতে আপনাদের আপত্তি কোথায়”।
এদিন শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এদিন বিচারপতি নাগরত্ন কমিশনের আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরাকে প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কাজ তো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট করানো। কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার পর আপনারা তা পালন করলেন না কেন? বাহিনী কোথা থেকে আসবে সেটা তো আপনাদের দেখার কথা নয়”।
এই কথা শুনে কমিশনের পক্ষের আইনজীবী বলেন, বাহিনী মোতায়েন করা রাজ্য সরকারের কাজ তা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়।
এই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষের আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করে বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। বাংলায় আইনের শাসন নেই। বরং শাসক দলের আইন চলছে। এমন নয় যে এই প্রথম বার পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতা রয়েছে। এ বার পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে থেকেই হিংসার ঘটনা শুরু হয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে যে সেই হিংসার মাত্রা আরও বাড়তে পারে”। এই একই সওয়াল করতে শোনা যায় অধীর চৌধুরীর আইনজীবীকেও।





