বাঙালিদের মধ্যে সন্ধ্যেবেলা বেশ জমিয়ে চপ-শিঙাড়া খাওয়ার একটা চল রয়েছে। তবে উত্তর ভারতেও কিন্তু শিঙাড়া বেশ জনপ্রিয়। আর এবার তাই সেই শিঙাড়াকেই একটা আলাদা ব্র্যান্ড করে ফেললেন উত্তরপ্রদেশের মিরাটের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী। তৈরি করে ফেললেন এক দৈত্যাকার শিঙাড়া।
ওই মিষ্টি ব্যবসায়ী শুভম কৌশল সেই দৈত্যাকার শিঙাড়ার নাম দিয়েছেন ‘বাহুবলী’ শিঙাড়া। এমন নাম দেওয়ার কারণও রয়েছে যথেষ্ট। কারণেই এই একটি শিঙাড়ার ওজন ১২ কেজি। তেমন তেমন খাওয়ানদার হলে এই শিঙাড়া বিনামূল্যেই পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য চ্যালেঞ্জ নিতে হবে অবশ্যি। ৩০ মিনিটের মধ্যে চেটেপুটে সাবাড় করতে হবে ১২ কেজির শিঙাড়া। আর তা পারলেই কড়কড়ে ৭১ হাজার টাকা পুরস্কার। সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়ে গিয়েছে ‘বহুবলী থ্রি’ নিয়ে।
মিরাটের লালকুর্তি এলাকায় মিষ্টির দোকান রয়েছে শুভম কৌশলের। তিন প্রজন্ম ধরেই মিষ্টি তৈরি করছেন তারা। নানান মিষ্টির সঙ্গে কচুরি, শিঙাড়াও পাওয়া যায় ওই দোকানে। শুভম জানিয়েছেন, এ যে-সে শিঙাড়া নয়। নামের মতোই ওজনেও ‘বাহুবলী’। এই শিঙাড়ার পুরের ওজনই ৭ কেজি। তাতে মশালামাখানো আলুসিদ্ধর মধ্যে মেশানো হয়েছে কড়াইশুঁটি, পনির এবং ড্রাই ফ্রুটস।
View this post on Instagram
এই ‘বাহুবলী শিঙাড়া’ বানাতেও বেশ কসরত করতে হয় বৈ কি! একটি শিঙাড়া তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা। শুধুমাত্র ভাজতেই সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। এই শিঙাড়া ভাজার কাজে তিনজন কারিগরকে রাখা হয়েছে বলে জানান শুভম।
এই শিঙাড়ার দামও খুব একটা কম নয়। একটি বাহুবলী শিঙাড়ার দাম দেড় হাজার টাকা। শুভম জানান, এখন মিরাটবাসী জন্মদিনে কেক নয়, এই ‘বাহুবলী শিঙাড়া’ কাটছে। তাঁর চ্যালেঞ্জ, এই শিঙাড়া যদি কেউ আধ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে পারেন, তাহলে তিনি পেয়ে যাবেন ৭১ হাজার টাকা।
শুভম জানাচ্ছেন, “সমাজমাধ্যমে তো বটেই, খাদ্যরসিকদেরও নজর কেড়েছে আমাদের ‘বাহুবলী’ শিঙাড়া। এলাকার লোকজন ছাড়া অন্য রাজ্য থেকেও এর অর্ডার আসছে”। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ৪০-৫০টি অর্ডার পেয়েছেন তিনি।
কিন্তু হঠাৎ এমন দৈত্যাকার শিঙাড়া বানানোর চিন্তা এল কীভাবে? শুভমের কথায়, “শিঙাড়া নিয়ে অন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। সে জন্য ‘বাহুবলী’ শিঙাড়া তৈরি করি। প্রথমে ৪ কেজির শিঙাড়া তৈরি করতাম। এর পর তার ওজন বাড়িয়ে ৮ কেজি করি। সেগুলো বেশ পছন্দ হয়েছিল লোকজনের। এর পর ১২ কেজির শিঙাড়া তৈরি করি”।





