২৬ হাজার চাকরি বাতিল! ডেটা কারসাজি নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?

এসএসসি(ssc) দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে এই পরীক্ষার পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কারসাজির বিরুদ্ধে। যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথকীকরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তো রয়েছেই, পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে ডেটা ম্যানিপুলেশন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এই মামলাটি শুধু চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মাপকাঠিও হয়ে উঠবে।

সোমবার, সুপ্রিম কোর্টে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শেষ দিনের শুনানি শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে এই শুনানিতে সিবিআই দাবি করে, এসএসসির কাছে থাকা ডেটায় স্পষ্ট কারসাজি হয়েছে। সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, নায়সা এবং স্ক্যানটেক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে পঙ্কজ বনশলের ডেটা মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, “বনশলের ডেটা নির্ভুল। আমাদের তদন্তে স্পষ্ট, এসএসসির ডেটায় কারসাজি হয়েছে।” অন্যদিকে, চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষের আইনজীবী বিভা মাখিজা অভিযোগ তোলেন, পরীক্ষার মেধা তালিকা প্রকাশ না করাই এসএসসির অনিয়মের প্রমাণ।

শুনানিতে এসএসসির ব্যর্থতার দিকটি তুলে ধরেন বঞ্চিত প্রার্থীদের আইনজীবী। তিনি বলেন, “এসএসসি বারবার বলেছে তারা যোগ্য-অযোগ্য পৃথকীকরণ করতে অক্ষম। পুরনো প্যানেল বাতিল করে নতুন পরীক্ষা নেওয়াই সঠিক সমাধান হবে।” সিবিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, এসএসসির ডেটায় কারসাজি হলেও পঙ্কজ বনশলের ডেটা নির্ভুল বলে প্রমাণিত। তবে প্রধান বিচারপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের হাতে মূল মার্কশিট নেই। বনশলের ডেটাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।”

বিভা মাখিজার বক্তব্য, “লিখিত পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। শূন্য পদের চার গুণ প্রার্থীর তালিকা তৈরির নিয়ম মানা হয়নি।” তিনি প্রস্তাব দেন, বনশলের ডেটার ভিত্তিতে নতুন মেধা তালিকা তৈরি করা হোক এবং যাঁদের সাদা ওএমআর ছিল, তাঁদের প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হোক।

আরও পড়ুনঃ বিতর্কের নতুন আঙিনা! কলকাতার মন্ত্রী ফিরাদ হাকিমের গায়ে ৪৫ হাজারের টি-শার্ট!

শেষ মুহূর্তে আদালত জানিয়ে দেয়, যদি যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথকীকরণ সম্ভব না হয়, তবে পুরো প্যানেল বাতিল হতে পারে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই রায়ের উপর নির্ভর করছে লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ এবং এসএসসির বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles