‘পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন’, ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন শুভেন্দু

রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন মেনে কাজ করছে না। আদালতের নির্দেশও মানছে না কমিশন। এমনই অভিযোগ তুলে এবার ফের একবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্রে খবর, আজ, বৃহস্পতিবারই তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করতে পারেন।

শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার ব্যাখ্যা চাইবেন তিনি। স্পর্শকাতর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমায় বাধা এমন বিষয়ে প্রার্থীদের বিকল্প পদ্ধতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি রাজ্য  নির্বাচন কমিশন, এমনটাই অভিযোগ বিরোধী দলনেতার। কমিশন যাতে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়, সেই নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানাবেন শুভেন্দু।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় রাজ্য পুলিশের সংখ্যা কম থাকবে, সেখানেও ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে।

এমনও নির্দেশ দেওয়া হয়, যে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই, সেখানে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য পুলিশ, রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। যাতে কোনও অশান্তি ছাড়া মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সেসবের দায়িত্ব দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু সেই নির্দেশের পর দু’দিন কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন। উল্টে তারা হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এমন অবস্থানের বিরুদ্ধেই এবার ফের একবার হাইকোর্টে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বলে রাখি, আগামী মাসের ৮ তারিখ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। ১১ই জুলাই ফলপ্রকাশ। শুরু হয়ে গিয়েছে মনোনয়ন সংক্রান্ত কাজ। কিন্তু মনোনয়ন জমার প্রথমদিন থেকেই নানান প্রান্তে একাধিক অশান্তির খবর উঠে এসেছে। গতকাল, বুধবারও দিনভর মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি চলে ভাঙড়ে। আর এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ ছিল ঠুঁটো। এমন রাজ্য পুলিশ দিয়ে কীভাবে পঞ্চায়েত ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

RELATED Articles