অয্যোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের কাজ বেশ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। একদিকে চলছে কাঠামো নির্মাণের কাজ আর অন্যদিকে পাথর কেটে তৈরি হচ্ছে রামের মূর্তি। আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই রাম মন্দির উদ্বোধন করতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরই ভক্তকূলের জন্য খুলে দেওয়া হবে মন্দিরের আংশিক এলাকা।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রতি তিনমাস অন্তর একবার করে যান অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের কাজ খতিয়ে দেখতে। সেই কাজে বর্তমানে তিনি রয়েছেন অয্যোধ্যায়। সেখানে পর্যালোচনা বৈঠক সারেন তিনি। এই বৈঠকেই তিনি বলেন, নতুন মন্দির খুলে গেলে অযোধ্যায় ম’দ-মাংস-মাছ-ডিম নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
যোগীর মতে, নতুন মন্দির খুলে গেলে অয্যোধ্যায় হিন্দু ভক্তদের ঢল নামবে। তাদের সেই ভাবাবেগ ও খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখেই অযোধ্যায় ম’দ-মাংস-মাছ বিক্রি বন্ধ করা দরকার।
প্রশাসনিক মহলের মতে, অযোধ্যায় ম’দ-মাছ-মাংসের দোকানের অভাব নেই। অন্য শহরের তুলনায় বেশিই রয়েছে। খানিক দূরেই ফৈজাবাদে সেনা ছাউনি রয়েছে। বহু সেনা পরিবার নিয়ে লাগোয়া অযোধ্যায় থাকেন। হিন্দুদের অনেকেই আমিষ খান। তাছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও রয়েছে। ফলে মাছ-মাংস ডিমের ভালোই চাহিদা রয়েছে এখানে। এমন আবহে অযোধ্যায় এইসব বিক্রি বন্ধ হলে বিক্রেতাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।
প্রশাসনের মতে, রাম মন্দির খুলে গেলে এক থেকে দেড় লক্ষ পুন্যার্থীর আগমন ঘটবে প্রতিদিন এখানে। তাদের থাকা-খাওয়ার জন্য এখানে নতুন নতুন হোটেল, বাজার তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও, অয্যোধ্যাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানাতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরির কাজও প্রায় হয়েই এসেছে। রেল স্টেশনটিকেও বিশ্বমানের করে তোলা হয়েছে। বাস টার্মিনাসও আধুনিক।
ধর্মীয় স্থানে ম’দ-মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক শহরেই আছে আংশিক নিষেধাজ্ঞা। উপাসনাস্থল থেকে পাঁচশ বা হাজার মিটার দূর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে সাধারণত। এছাড়া রামনবমীর সময়ও এগুলি বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা হয়। ২০২১ সালে উত্তরপ্রদেশে শ্রীকৃষ্ণজন্মভূমি বলে খ্যাত গোটা মথুরার পুর এলাকায় ম’দ, মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে অযোধ্যাও।





