গতকাল, মঙ্গলবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা। আজ, বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গ্রামবাসীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এগরায় বাজির কারখানায় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবী করেন তিনি। এও বলেন যে পুলিশ এই বাজির কারখানা থেকে প্রতি মাসে টাকা নিত।
মমতাকে তোপ দেগে শুভেন্দুর দাবী, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলি, শুধু বাজি কারখানাই নয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনার পার্টিকে বোমা সাপ্লাই (সরবরাহ) করার জন্য এই কারখানা তৈরি হয়েছিল। আর আপনার পুলিশ প্রতি মাসে এখান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে যেতেন”।
বাজি কারখানায় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত আরও বেশি। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাজি কারখানার মালিক ভানু বাগ এখন পলাতক। শুভেন্দুর দাবী, “ভানু বাগ তৃণমূলের এক জন বড় নেতা। উনি ২০১৩ সালে পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। ’১৮ সালে ওঁর বৌমাকে দাঁড় করিয়েছিলেন ভোটে”। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দুর দাবি, ‘‘আগেও ওই জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখান থেকেও শিক্ষা হয়নি”।
শুভেন্দুর মতে, রাজ্য সরকার যে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে, তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “এটা এনডিআরএফের টাকা। ভারত সরকারের টাকা”। মৃতদের পরিবারের উদ্দেশে বিজেপি বিধায়কের পরামর্শ, “আপনারা কোনও এমএলএ অফিস, পার্টি অফিস থেকে চেক নেবেন না। গ্রাম পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিস থেকে যদি চেক দেয়, তবেই তা গ্রহণ করবেন”।
শুভেন্দুর দাবী, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। এর পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে বিজেপির তরফে তাদের আর্থিক সাহায্য করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, “ভানু বাগের ভাইয়ের পরিবার ছাড়া অন্যদের সাহায্য করব। কারণ, খুন করিয়েছেন ওঁরা। বাকি নিরীহ গ্রামবাসীদের সাহায্য করব”।
পুলিশকে একহাত নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “প্রমাণ লোপাট করছে রাজ্য পুলিশ। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হোক। সেন্ট্রাল ফরেন্সিক দলকে দিয়ে তদন্ত হোক। নইলে সব প্রমাণ মমতার পুলিশ লোপাট করবে। কারণ পুলিশের সঙ্গে এদের ভাগ-বাঁটোয়ারা ছিল। আইসি এগরা প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যেতেন এখান থেকে”।
এই ঘটনার সঙ্গে রামপুরহাটের বগটুই কাণ্ডের তুলনা টেনে পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবী তুলে শুভেন্দু বলেন, “বগটুই থেকে এত দিন পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, তার জন্য এই পুলিশমন্ত্রীর এক মিনিটও চেয়ারে থাকা উচিত নয়। এই মৃত্যুর জন্য পুলিশমন্ত্রী দায়ী। তাঁর প্রশাসন দায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই হবে। আমরা দু’তিন দিনের মধ্যে এগরায় মহামিছিলের ডাক দিচ্ছি। ২৫ হাজার লোক রাস্তায় হাঁটবেন। সেখানে দাবি এক, পুলিশমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ চাই। দুই, এনআইয়ের তদন্ত চাই”।





