গরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নানান সভা থেকে কেষ্টর হয়ে সওয়াল করেছেন মমতা। এমনকি, গতকাল, বৃহস্পতিবারও নেতাজি ইন্ডোর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে কেষ্টকে ‘বীরের সম্মানের’ সঙ্গে ফিরিয়ে আনা হবে। তাঁর সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে এবার তোপ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
আজ, শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরে যান শুভেন্দু। সেখানে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে বীর বলেছেন, তার সঙ্গে দেখা করতে দিল্লির তিহার জেলে যেতে হবে”। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের পালটা বক্তব্য, “চোর বলেছে বিজেপি, সিবিআই চাই বলেছে বিজেপি। এফআইআর করেছে বিজেপি। সেই বিজেপিতে বাঁচার জন্য গিয়েছেন শুভেন্দু। যাকে নিয়ে কটাক্ষ করছেন, তার আগে ভাবুন নিজে বাঁচতে গিয়েছেন”।
আজ, শুক্রবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই শাসক দলকে শানাতে থাকেন শুভেন্দু। শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিশানা ছিলেন না। আগামীকাল, শনিবার দু’দিনের সফরে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। বলেন, “কাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন টাকা তুলতে”।
শুভেন্দুর এই মন্তব্য নিয়েও তোপ দাগেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু চোর, তোলাবাজ, ঘুষখোর। তিনিই তো তোলা নিয়ে বেড়াতেন। জেলায় জেলায় অবসার্ভার থাকার সময় তোলা তোলার অভিযোগ আসত। সেই কারণে অভিষেক ওকে সরিয়েছিল। তাই ও এটা বলছে”।
এদিন নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস দলটা সম্পূর্ণ একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। দলটা পরিবারবাদ, তোষণ ও দুর্নীতির উপর চলছে। তারা রাজনীতি করছে টাকা তোলার জন্য। তিনি যে ভাবছেন বীর। সেই বীরের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিহার জেলে যেতে হবে”।
শুভেন্দুর সংযোজন, “দুর্নীতিগ্রস্ত দল দুর্নীতিবাজদের সম্মান করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এখন আত্মবিশ্বাস না দেখালে তো পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে পারবে না। কাল যারা দেখা করতে গিয়েছিল, পঞ্চায়েত প্রধানরা, তারা সব চোর। আর ভাইপো-সহ ডাকাতরা মঞ্চে বসেছিল। আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার জন্য ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে পঞ্চায়েত ভোট করবে রাজ্য সরকার”।
এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে শুভেন্দুকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় ও দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে আলিপুরদুয়ার যান তিনি। আজই উত্তরবঙ্গ সফর সেরে রাতে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ট্রেন ধরে কলকাতা ফিরবেন শুভেন্দু।





