বঙ্গ রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম (Nandigram) ঠিক কতটা উল্লেখযোগ্য, তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে হাতিয়ার করেই বামেদের (CPM) সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৃণমূল। কিন্তু রাজনীতিতে রঙ কখন যে বদলে যায়, তা কেউ বুঝতেও পারেন না। তা না হলে সেদিন তৃণমূলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে বামেদের বিরুদ্ধেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সামিল হওয়া শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কী না এখন সেই বামেদেরই প্রশংসা করলেন।
আজ, শনিবার নন্দীগ্রাম দিবসে শহিদ মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “সব বামপন্থীরা খারাপ নয়”। তিনি এও বলেন যে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের বামেদের একটা বড় অংশ তাঁকে ভোট দিয়েছেন। বলে রাখা ভালো, ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন শুভেন্দু। সেই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান তিনি।
এদিন নন্দীগ্রাম দিবসে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন যে বামফ্রন্ট তৃণমূলের থেকে কতটা বেশি শক্তিশালী দল ছিল। তিনি বলেন, “এদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল বামফ্রন্ট। এদের থেকে অনেক বড় সংগঠন ছিল সিপিএমের। ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল”।
এদিন শুভেন্দু মনে করিয়ে দেনব যে সেই সিপিএমের অন্যায়, অত্যাচার কীভাবে তিনি সামাল দিয়েছেন। তবে দাবী করে তিনি এও বলেন যে সব বামপন্থী খারাপ নয়। তাঁর কথায়, “অনেক বামপন্থীই আমাদের সঙ্গে এসেছেন। বামপন্থীদের একটা বড় অংশ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি জিতেছি। এ কথা স্বীকার করতে আমার কোনও অসুবিধা নেই”।
তবে বাম শিবিরের তরফে শুভেন্দুর এহেন মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস এই প্রসঙ্গে বলেন, “বামেদের ভোট ভুল বুঝিয়ে ওরা নষ্ট করেছে। এখন বিজেপির হাওয়া খুব খারাপ, তাই চেষ্টা করছে, যাতে আরও ভোট বাড়ানো যায়”।
তিনি দাবী করেন, “যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল, তারা এখন কান্নাকাটি করছে, তারা এখন ফিরে আসছে”। হিমাংশুর কথায়, সকলকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে ফের লড়াইতে নামছে বামেরা।






