‘বিজেপির জন্যই নন্দীগ্রামে জিতেছেন শুভেন্দুবাবু, তাঁর দম থাকলে একা কোনও জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখান’, শুভেন্দুকে তীব্র তোপ সুরজিতের

সদ্যই তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই এই বহিষ্কার, দাবী হয়েছে বিজেপির হাওড়া সদর সভাপতি সুরজিৎ সাহার। তবে বহিষ্কার হওয়ার পরও থেমে থাকলেন না তিনি। ফের একবার আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, ধীরে ধীরে নানান বিজেপি নেতা ফের তৃণমূলে ফিরে যাওয়া নিয়ে বিরোধী দলনেতাকে তোপ দেগেছিলেন সুরজিৎ সাহা। তিনি বলেন, “দু’দিন আগে যাঁরা তৃণমূল থেকে এসেছেন তাঁদের চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান নিজে বলছেন আমার কাছে সময় নেই। যে নামটা আসছেন সেটাও তৃণমূল থেকে আসছে। শুভেন্দুবাবু সেই নাম প্রস্তাব করছেন। বিজেপিতে কারা কাজ করেন তাঁদের নাম জানেন না। উনি তৃণমূল যারা করেন তাঁদের নাম জানেন। ভারতীয় জনতা পার্টির তৃণমূলীকরণ মানব না”।

আসলে হাওড়া থেকে সম্পূর্ণভাবেই হেরে গিয়েছে বিজেপি। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন যে হাওড়ার নানান বিজেপি নেতার সঙ্গে তৃণমূল নেতা অরূপ রায়ের যোগসাজশ রয়েছে। এই কারণে সেই কেন্দ্র থেকে বিজেপি জিততে পারেনি। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন সুরজিৎ।

তিনি বলেন, “অরূপ রায়ের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও নেতার দহরম-মহরম থাকলে প্রমাণ করুন। ৬ মাস আগে এসে ২৮-৪০ বছর বিজেপি করা লোককে সার্টিফিকেট দেবেন নাকি! নারদায় ওঁকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে উনি সৎ কিনা? সেই প্রশ্নটা জনসাধারণ ও বিজেপি কার্যকর্তারা করছেন”।

সুরজিৎ এও বলেন যে শুভেন্দু যদি এটা প্রমাণ করতে না পারেন যে হাওড়ার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে অরূপ রায়ের কোনও যোগাযোগ রয়েছে, তাহলে তাঁকে হাওড়ার সমস্ত বিজেপি নেতার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যের কারণেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবী সুরজিৎ-এর। তাঁর মতে, তিনি ক্যামেরার সামনে সত্যি কথা বলেছিলেন বলেই আজ তাঁর এই পরিণতি।

এরপরই শুভেন্দুর বিষয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন সুরজিৎবাবু। তিনি বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমি হাওড়া থেকে লোক না পাঠালে কী শুভেন্দুবাবু নন্দীগ্রামে জিততে পারতেন? হাওড়া থেকে লোক গিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটের কাজ করেছে বলেই তিনি আজ সেখানকার বিধায়ক হয়েছেন”।

তাহলে কী বিজেপির দমেই নন্দীগ্রামে জিত হয়েছে শুভেন্দুর? সুরজিতের জবাব, “শুভেন্দুবাবুর দম থাকলে একা কোনও জায়গায় জিতে দেখান। তিনি বিজেপির দমেই জিতেছেন। বিজেপি ছাড়া জিততে পারতেন নাকি? তেমন হলে তৃণমূল ছেড়ে অন্য একটা দল করলেন না কেন? তাঁর জেতার জন্য বিজেপিকে দরকার ছিল তাই বিজেপির ছত্রছায়ায় এসেছেন। তা নাহলে জীবনে কোনওদিন তিনি জিততে পারতেন না”। তবে এদিন বিজেপির দিলীপ ঘোষ ও সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা যায় সুরজিৎবাবুকে। তাঁর মতে, এই দু’জন মানুষকে দল থেকে উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া হয়নি।

তাঁর এই তথ্য যে রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক বড় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করবে তা বলাই বাহুল্য। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে বেশ অস্বস্তিতেই রয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিনের এই সাক্ষাৎকারে সুরজিৎ এও জানান যে বিজেপি তাঁকে বহিষ্কার করলেও, এখনই অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না।

RELATED Articles