পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকার পরিবার যে আজীবন ঘাসফুলের সমর্থক, এই কথাই এতদিন সকলে জানত। কিন্তু গত কয়েকদিনে এই সমীকরণ বেশ কিছুটা পাল্টেছে। অধিকারী পরিবারে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যেই, অধিকারী পরিবারের দুই ছেলে বিজেপি নাম লিখিয়েছেন। তার উপর এই বাড়িরই আরেক ছেলে দিব্যেন্দু অধিকারীও তৃণমূলে ‘বেসুরো’ গান ধরেছেন।
তাঁর দুই ছেলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, অন্য ছেলে তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দুও ‘বেসুরো’ গান ধরেছেন, এমন অবস্থায় বেশ ধন্ধের মুখে পড়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারী। এত কিছুর পরও তিনি দলনেত্রীর উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা স্পষ্টই জানালেন শিশিরবাবু। তবে শুভেন্দুর দলত্যাগ করা নিয়ে শেষ কিছুদিন ধরে যেভাবে তাঁর পরিবারের দিকে আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়েছে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা, তাতে বেশ অভিমানী পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি। বেশ হতাশার সুরেই জানান যে, “শুভেন্দু অনেক কষ্টে-অভিমানে দল ছেড়েছে”।
দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ১৯শে ডিসেম্বর অমিত শাহ্’র উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন শুভেন্দু। এরপরই কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে অপসারিত করা হয় শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীকে। এই নিয়ে বেজায় ক্ষিপ্ত হন সৌমেন্দুর দাদা তথা তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত যে অগণতান্ত্রিক তা জানান তিনি। কাঁথি পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারীদের আলাদা অফিস ছিল। সৌমেন্দুকে অপসারিত করার পর তাঁরা কেউই সে অফিসে যাননি।
এদিকে, দাদার পথ অনুসরণ করে গতকাল কাঁথিতে শুভেন্দুর সভাতেই গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন সৌমেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, দিব্যেন্দুও নাকি দলত্যাগ করতে পারেন।
এই অবস্থায় দোটানায় দিন কাটাচ্ছেন শিশির অধিকারী। দুই ছেলে দল ছেড়ে দিলেও, তিনি যে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেত্রী বলে মনে করেন, একথা জানান তিনি। এখনও তিনি তাঁকেই শ্রদ্ধা করেন। তাই তাঁর আসল অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানান নি তিনি। শুভেন্দুর দল ছাড়া নিয়ে শিশির অধিকারী বলেন, “শুভেন্দু অনেক কষ্টে-অভিমানে দল ছেড়েছে। ও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না”। শুভেন্দুর অভিমানের কথা বলার পরই তাঁর সাফ বক্তব্য যে, সৌমেন্দুর সঙ্গে যা হয়েছে, তা তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।





