লোকসভা নির্বাচনের আগে শাসক শিবিরে যেন এক অদ্ভুত নাটকীয় মোড় শুরু হয়েছে। নানান নেতাদের নানান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার খবর আসছে ক্ষণে ক্ষণে। দু’দিন আগেই তৃণমূলের মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। রাক্য সাধারণ সম্পাদকও থাকতে চান না তিনি, তাও জানিয়েছেন। এবার পালা বরানগরের তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়ের। তিনি দল ছাড়তে চলেছেন, এমন গুঞ্জনই এখন বঙ্গ রাজনীতিতে।
বিগত বেশ কিছু মাস ধরেই উত্তর কলকাতার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে রেষারেষি, বাকবিতণ্ডা চলছে বিধায়ক তাপস রায়ের। বারবার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার তিনি এও অভিযোগ করেন যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নাকি তাঁর বাড়িতে ইডি পাঠিয়েছিল। তিনি যাতে লোকসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতা থেকে প্রার্থী না হতে পারেন, এত জন্য ‘ষড়যন্ত্র’ও করছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এসবেই মধ্যেই এবার জল্পনা ছড়িয়েছে তাপস রায়ের তৃণমূল ছাড়ার।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কী বলেছিলেন তাপস রায়?
গত শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে তাপস রায় বলেন, “উত্তর কলকাতায় প্রার্থী হিসেবে আমার নাম উঠে আসছে। আমি যাতে টিকিট না পাই, তাই আমার বাড়িতে ইডি ঢোকাচ্ছে। রাজ্যসভা, লোকসভা, রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্তত ৪০ জন আমাকে এই কথা বলেছে”।
এরপরই অভিযোগ করে তিনি বলেন, “১২ তারিখ আমার বাড়িতে ইডি তল্লাশি চলছে। আর তখন উত্তর কলকাতায় স্বামীজির বাড়িতে তৃণমূল নেতানেত্রীরা উল্লাস করছিলেন। অনেক যুব নেতানেত্রীও ছিলেন। তবে হ্যাঁ, তাঁরা প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন”।
এমন আবহে গতকাল, রবিবারই তাঁর দল ছাড়ার গুঞ্জন রটেছে। এও ব্রিগেড সমাবেশ উপলক্ষ্যে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ও নেতাজি ইন্ডোরে ক্যাম্পের দায়িত্ব তাপসকে দিতে চেয়েছিল দল। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব নিতে রাজি হন নি।
দল ছাড়ার গুঞ্জনে কী বললেন বিধায়ক?
এই জল্পনা নিয়ে তাপস রায় জানান, “কে কী খবর বলছে, আমি জানি না। আমার দল পরিবর্তন অথবা অন্য কোনও কিছু নিয়েই আমি কিছু বলব না। যদি কখনও কিছু করি, সেটা সকলকে জানিয়েই করব। সাংবাদিক সম্মেলন করে জানাব। আমার কোনও কিছু লুকোনোর নেই”।
সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন তাপস রায়। কী সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত? সূত্রের দাবী, তাপস রায় নৈতিকতার রাজনীতি করতে চান। দল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভাতেও বিধায়ক পদেও ইস্তফা দেবেন তিনি, এমনটাই গুঞ্জন।





