বসন্তে পুরুলিয়ার রূপ মন ভরানো। সেখানেই পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। ডাইনোসরের জীবাশ্ম নাকি পুরুলিয়ায়। ছোটনাগপুর মালভূমিতে পুরুলিয়ার অস্থি পাহাড়ে ডাইনোসরের জীবাশ্ম মিলেছে বলে দাবি করেছেন আনন্দমার্গীরা। এতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। শুরু হয়েছে বিতর্কও।
ঝালদা দু’নম্বর ব্লকের চিতমু গ্রাম পঞ্চায়েতের তাহেরবেড়া গ্রাম সংলগ্ন মাড়ামু মৌজায় প্রায় ২০০ ফুট উঁচুতে অস্থি পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে ওই ডাইনোসরের জীবাশ্ম রয়েছে বলে দাবি করেছেন আনন্দমার্গীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন , “তারাও দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছেন অস্থি পাহাড়ে ডাইনোসরের জীবাশ্ম রয়েছে। সবটাই তাদের শোনা কথা। পুরোটাই আনন্দমার্গিদের নিজস্ব মত।”
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেছেন , “পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় এই রকম আকৃতির বহু পাথর রয়েছে। তার মানে এই নয় এগুলো কোনও প্রাণীর জীবাশ্ম। তাছাড়াও এগুলিকে ডাইনোসরের জীবাশ্ম বলা হচ্ছে কিসের ভিত্তিতে তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের সদর দফতর আনন্দনগর জয়পুর ব্লকে রয়েছে। আনন্দনগরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত অস্থি পাহাড়। ১৯৮০ সালে আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা প্রভাতরঞ্জন সরকার পাহাড় চূড়ায় তপস্যা করার সময় সেখানের পাথর পরীক্ষা করেন। তারপরই প্রকাশ্যে আসে ডাইনোসরের অস্তিত্বের কথা। জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে ডাইনোসরের জীবাশ্ম বিষয়ে বড় বোর্ড বসানো হয়।

যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রশাসনিক স্বীকৃতি নেই। ওই এলাকায় শাল জাতীয় বৃক্ষ, বড় জন্তুর কোমর, বাঘের মুখ, সিংহ জাতীয় জীবের পায়ের অংশের চিহ্ন মিলেছে আগেই।
এই বিষয়ে ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেছেন, “আমার কাছে এই বিষয়ে কোনও খবর নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো”।
দীর্ঘ অনেক বছর ধরেই ওই ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ে ঘুরে এসেছেন প্রশাসনের অফিসাররা। এখান থেকে জীবাশ্ম নিয়ে এসে পুরুলিয়ায় গবেষণা চলেছে দীর্ঘদিন ধরেই। এবার পাহাড়ের গায়ে বিশাল জীবাশ্মের দেখা মেলায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। ডাইনোসর বহু দশক আগে লুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। সেখানে এত বছর পর জীবাশ্ম মেলায় কৌতূহল দেখা দিয়েছে গ্রামের মানুষদের মধ্যে। পুরুলিয়ার ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের চিতমু গ্রাম পঞ্চায়েতের অস্থি পাহাড়ে এই জীবাশ্ম দেখা গেছে বলে খবর। এই ডাইনোসর কাহিনী নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়।





