কোনও বাচ্চার জীবনে শিক্ষার প্রথম ধাপ হয় স্কুল। স্কুল থেকেই পড়াশোনা ছাড়াও জীবনের নানান দর্শনের জ্ঞান অর্জন করে বাচ্চারা। সেই কারণেই হয়ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বিতীয় অভিভাবক বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এক শিক্ষিকা এমন এক কাজ করলেন, যা খুবই লজ্জাজনক। ছাত্রীকে দিয়ে জুতো পরিষ্কার করালেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের লস্করপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার বিকেলে ওই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ত্রিনয়নী সাহা কুণ্ডুর জুতোতে জুতো লেগে যায় এক ছাত্রীর। ছাত্রীর জুতোয় নোংরা লেগে থাকায় শিক্ষিকার জুতোতেও নোংরা লেগে যায়। তাতেই রেগে যান শিক্ষিকা।
এরপর ওই ছাত্রীকেই শিক্ষিকা বলেন, তাঁর জুতো পরিষ্কার করে দিতে। এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই অভিভাবকরা রেগে যান। আজ, শনিবার সকালে স্কুল শুরুর সময় অভিভাবকরা একজোট হয়ে স্কুল ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বলে জানা গিয়েছে। ওই শিক্ষিকার সঙ্গে বচসা বাঁধে অভিভাবকদের।
যে ছাত্রীকে দিয়ে জুতো পরিষ্কার করানো হয়েছে তার অভিভাবক জানান, “বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করে খেলছিল। সেই সময় ওই শিক্ষিকা ঢুকছিলেন। ভুল করে পায়ে পা লেগে যায়। আমার মেয়ে তখন বলেছে মিস সরি। উনি পাল্টা বলেন সরি বললে হবে? যা জুতো সাবান দিয়ে ধুয়ে নিয়ে আয়। তারপর ওই শিক্ষিকা আবার এসে দেখছেন সত্যি কি সাবান দিয়ে জুতো ধুচ্ছে কি না”।
শিক্ষিকার এমন আচরণের কারণে অভিভাবকরা স্কুল ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, একথা জানার পর স্কুলে পৌঁছন হিলি থানার পুলিশ ও হিলি স্কুল পরিদর্শকের প্রতিনিধিরা। তারা অভিভাবকদের আশ্বাস দেন, এই বিষয়ে খতিয়ে দেখার। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অভিভাবকরা স্কুলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবী জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
আরও পড়ুনঃ ‘নির্যাতিতার বিচারের নামে ৪.৭৫ কোটি টাকা তুলেছেন অনিকেতরা, মূল লক্ষ্য থেকে সরে আন্দোলনকে বেলাইন করছে ওরা’, অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকদের নতুন সংগঠনের
অন্যদিকে, এই ঘটনায় সাফাই দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা বলেন, “আমার জুতো সাইডে রাখা ছিল। আর ও এসে সেটা মাড়িয়ে দেয়। বাচ্চাটার পুরো জুতোতে পায়খানা মাখানো ছিল। আমার জুতোতেও সেটা লেগে যায়। আমি তখন বলেছিলাম তোর জুতোটা যখন ধুবি আমারটাও সাবান দিয়ে ধুয়ে দিস। এটা নর্মাল ব্যাপার। আমি ওকে দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে এই ভেবে কিছু বলিনি”।





