রাত যতই গাঢ় হচ্ছিল, শহরের আকাশ যেন ততটাই রহস্যময় হয়ে উঠছিল। দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন মানুষ ঘরের ভিতরে, তখনই আচমকাই চোখে পড়ল আকাশে কিছু অদ্ভুত দৃশ্য। পাখির মতো দেখতে হলেও শব্দে বোঝা গেল, ওগুলো পাখি নয়, কোনও যান্ত্রিক বস্তু! কেউ ভাবলেন ফানুস, কেউ ভেবেছেন খেলনা ড্রোন, কিন্তু মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। ঠিক যেন সিনেমার কোনো দৃশ্য বাস্তবে দেখা দিচ্ছে!
তবে এই ঘটনাটি আর কৌতূহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ, রাত সাড়ে ন’টার কিছু আগে থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত টানা ৪৫ মিনিট ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের আকাশে চক্কর কাটতে থাকে একাধিক ড্রোন। একটিও নয়, গোটা ৮ থেকে ১০টি ড্রোন একসঙ্গে কলকাতার আকাশে! সাধারণত পুজো বা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু সোমবার রাতে কোনও অনুষ্ঠান ছিল না, কোনও অনুমতি ছাড়াই এমন ড্রোন ওড়া প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মহেশতলা দিক থেকে প্রথমে একটি দুটি ড্রোন দেখা যায়। এরপর হেস্টিংস এলাকা, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড, ফোর্ট উইলিয়াম থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও রবীন্দ্র সদনের উপর দিয়ে ড্রোনগুলোর ঘোরাফেরা শুরু হয়। কলকাতা পুলিশের কিছু আধিকারিক প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সঙ্গে সঙ্গেই লালবাজার কন্ট্রোল রুমে খবর পাঠানো হয়। দক্ষিণ এবং মধ্য কলকাতার সমস্ত থানাকে সতর্ক করা হয়, এবং পুলিশের তরফে একাধিক টিম রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পরই শুরু হয় জোরালো তদন্ত। জানা গিয়েছে, কিছু ড্রোন পূর্ব ও উত্তর কলকাতার দিকে সরে যায়। সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা – সবাই মিলে এই ঘটনার সূত্র ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এতগুলি ড্রোন যদি সেনা বা প্রশাসনের না হয়, তবে কারা এগুলি ওড়াল? কলকাতার মতো সংবেদনশীল শহরের আকাশে এমন ঘটনাকে হালকা ভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে যেখানে সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতর ঠিক এই এলাকাতেই অবস্থিত।
আরও পড়ুনঃ Weather update : উত্তর ও দক্ষিণ—দুই বঙ্গেই তাণ্ডবের আশঙ্কা, আজ থেকে বৃষ্টি, কড়া হুঁশিয়ারি চার জেলায়!
ড্রোনগুলি কোথায় গিয়ে নামল, তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাও অজানা। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের অঞ্চলে ড্রোন ওড়ানোর জন্য আগাম অনুমতি নিতে হয় প্রশাসনের কাছ থেকে। কিন্তু কোনও অনুমতি ছাড়াই ড্রোন ওড়ানোর কারণে এই ঘটনাকে ঘিরে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে গোটা প্রশাসনে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রোনের কার্যকলাপ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। শহরের আকাশে হঠাৎ করে এমন রহস্যজনক গতিবিধি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা নিরাপত্তা মহল।






