Taliban vs Pakistan water conflict: ভারতের পর আফগানিস্তানের ধাক্কা! এবার তালিবান চায় পাকিস্তানের দিকে জলপ্রবাহ বন্ধ করতে!

পানীয় জল থেকে কৃষিকাজ—জলের উপর নির্ভরশীল আমাদের প্রতিদিনের জীবন। তবে যখন এই জলই হয়ে ওঠে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু, তখন তা শুধু পরিবেশ নয়, নিরাপত্তার প্রশ্নও তুলে দেয়। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ নিয়ে বিতর্ক বহু পুরনো। এবার সেই একই পথে হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান, যার ফলস্বরূপ দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সিন্ধু নদী ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে উৎপন্ন হয়ে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এই নদী নিয়ে ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। বহু বিতর্ক ও যুদ্ধের মধ্যেও চুক্তি টিকে আছে আজও। কিন্তু জল ব্যবস্থাপনার এই কূটনৈতিক ভারসাম্য এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, কারণ আফগানিস্তান এবার পাকিস্তানের আর এক গুরুত্বপূর্ণ নদীর জল থামানোর পরিকল্পনা করছে।

সম্প্রতি বালোচ অ্যাক্টিভিস্ট মির ইয়াব বালোচ এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, আফগানিস্তানের তালিবান জেনারেল মোবিন কাবুল সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা কুনার নদীতে বাঁধ তৈরি করে পাকিস্তানে জল প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। কুনার নদী, যেটি চিত্রাল নদী নামেও পরিচিত, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের কৃষি ও পানীয় জলের প্রধান উৎস। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে মারাত্মক জলসঙ্কট দেখা দিতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, গাম্বিরি নদীতে আফগানিস্তান সরকার একটি বড় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে, যা ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে এবং প্রায় ৩৪,০০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেবে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বেলুচিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক তথ্য মন্ত্রী জান আচাকজাই এটিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে “শত্রুতামূলক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Kolkata : রাতের আকাশে ঘুরপাক ৪৫ মিনিট, অনুমতি ছাড়াই ওড়ানো ড্রোনে আতঙ্কে প্রশাসন

যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ আছে, সেখানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে কুনার বা কাবুল নদী নিয়ে কোনো ধরনের জলচুক্তি নেই। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের একতরফা বাঁধ নির্মাণ শুধু সম্পর্ক তিক্তই করবে না, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই জল-রাজনীতির উত্তাপ ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে, যদি না দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসে সমাধানের পথ খোঁজে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর