কয়েক বছর আগে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ বা ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিয়ে গোটা দেশে এক ঝড় বয়ে গিয়েছিল। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর নির্যাতন, হত্যালীলাই ঘটনাই হোক বা কেরালা হিন্দু মহিলাদের জোর করে বা ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তকরণের ঘটনাই হোক, তা দেখে শিহরিত হয়েছিলেন দেশবাসী। আর এবার তেমনই এক সত্য ঘটনার প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয়েছে ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’।
এবার আর কোনও ফাইল বা স্টোরি নয়, একেবারে ডায়েরি। বাংলার বর্তমান অবস্থা, হিন্দুদের সঙ্গে আচরণ, বিশেষ সম্প্রদায়কে বিশেষ সুবিধা ও বাংলাদেশী রোহিঙ্গাদের বাংলায় অনুপ্রবেশের ঘটনাই এবার পর্দায় ফুটে উঠতে চলেছে এই ছবির মাধ্যমে। সনোজ মিশ্র পরিচালিত এই ছবি নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠার তুমুল সম্ভাবনা।
এক বছর আগেই মুক্তি পেয়েছিল এই ছবির ট্রেলার। আর সেই সময়ই বিতর্কের আঁচ ছড়ায় বাংলায়। পরিচালক সনোজ মিশ্রকে তখনই নোটিশ পাঠিয়েছিল আমহার্স্ট স্ট্রীট থানা। তা নিয়ে অবশ্য বেশ ক্ষোভ জারি করেছিলেন পরিচালক। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি আইটি অ্যাক্টেও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল সনোজ মিশ্রের বিরুদ্ধে। তবে সবকিছুকে দূরে ঠেলে এবার অবশেষে থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’।
কী দেখা গিয়েছে ছবির ট্রেলারে?
ছবির ট্রেলারে বাংলায় তোষণের রাজনীতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। ট্রেলারের শুরুতেই যেমন উঠে এসেছে বাংলাদেশের নোয়াখালির গ্রামের হিন্দুদের ২০০টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ, তেমনই উঠে এসেছে বাংলাদেশী রোহিঙ্গাদের বাংলায় অনুপ্রবেশের কাহিনীও। কীভাবে দিনের পর দিন বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষদের অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলায় আর এর জেরে বাংলায় ক্রমে হিন্দুরাই অবহেলিত হয়ে পড়ছে, সেই কাহিনীই বর্ণিত হবে এই ছবির মাধ্যমে।
ট্রেলারে এক জায়গায় শোনা যায় যে এও বলা হচ্ছে, ‘বাংলার পরিস্থিতি কাশ্মীরের থেকেও খাড়াপ হয়ে যাচ্ছে দিনদিন’। বাংলার সরকারের তোষণের রাজনীতির জেরে হিন্দুদের উৎসবেও পড়ছে কোপ। কিছু বছর আগেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, মহরমের কারণে দুর্গাপুজোর বিসর্জন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই ভাষণও শোনা গেল ট্রেলারেই।
শুধু কী তাই, মমতার ‘সিএএ লাগু হতে দেব না, এনআরসি চালু হতে দেব না’, এই বক্তব্যও ফুটে উঠেছে ট্রেলারে। কীভাবে বাংলা ধীরে ধীরে মুসলিম রাজ্যে পরিণত হচ্ছে আর তা হচ্ছে বাংলার সরকারের তোষণ ও ভোট ব্যাঙ্ক বাঁচানোর জন্য, সেই কাহিনীই দেখা যাবে এই ছবির মাধ্যমে।
দেখে নিন ট্রেলারঃ
বলে রাখি, এর আগেও নানা ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান ছবি। বাংলার রাজনীতি নিয়েও ছবি তৈরি হয়েছে বাংলায়। তবে সেই ছবি বাংলার হলে জায়গা পায়নি। এই ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৩০ আগস্ট। গোটা দেশে মুক্তি পেলেও এই ছবি আদতে বাংলায় ঠাঁই পায় কী না, তা নিয়ে যদিও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বৈ কী! নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতেই পারে এই ছবির উপর। তবে অতীত বলছে, কোন ছবিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে সেই ছবি দেখার আগ্রহ বেড়ে যায় দর্শকের। ফলে এই ছবির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হওয়ার সম্ভাবনা। থিয়েটারে বসে বাংলার দর্শক বাংলা নিয়ে তৈরি ছবি দেখতে পারবেন কী না, তা এবার সময়ই বলবে!





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!