WB Election 2021: দ্বিতীয় দফার ৩০টি আসনে এগিয়ে ঘাসফুল, পদ্মফুল নাকি সংযুক্ত মোর্চা? রইল গ্রাউন্ড রিপোর্ট

মাঝে আর মাত্র একদিন। এরপর ১লা এপ্রিল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোট। এই দফায় সবথেকে আকর্ষণীয় কেন্দ্র হল নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্রে লড়াই রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী। এর সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ে সামিল সিপিএমের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

তবে এদিন নন্দীগ্রামের সঙ্গে ভোট রয়েছে মোট ৩০টি কেন্দ্রে। নির্বাচন হবে দুই মেদিনীপুর, বাকুরাম ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার কয়েকটি আসনে। দলবদলের পর গোটা মেদিনীপুরে কী পদ্ম ফোটাতে পারবে শুভেন্দু অধিকারী নাকি ফের উন্নয়নের উপর ভিত্তি করেই বৈতরণী পার করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। কোন কেন্দ্রে কোন দল কেমন প্রভাব ফেলবে, সেসবের উত্তর মিলবে আগামী ২রা মে।

এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক কোন আসনে কী পরিস্থিতি? গ্রাউন্ড রিপোর্ট কী বলছে?

পূর্ব মেদিনীপুর

তমলুকঃ এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে।

পাঁশকুড়া পূর্বঃ প্রচারে সিপিএম এগিয়ে থাকলেও সুবিধা পাবেন তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব রায়চৌধুরী।

ময়নাঃ তৃণমূলের সংগ্রামকুমার দলুই, বিজেপির

নন্দকুমার: এগিয়ে থাকবেন বিজেপির নীলাঞ্জন অধিকারী।

মহিষাদল: তৃণমূলের তিলক চক্রবর্তী এবং আইএসএফের বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের লড়াই কঠিন। সমানে সমানে টক্কর হতে চলেছে এই কেন্দ্রে।

হলদিয়া: এই কেন্দ্রে তৃণমূলের স্বপন নস্কর, বিজেপির তাপসী মণ্ডল ও সিপিএম প্রার্থী মণিকা করের কঠিন লড়াই। বাম-বিজেপির মধ্যে ভোট কাটাকাটির অঙ্ক স্পষ্ট। লড়াইয়ে রয়েছে তৃণমূলও।

নন্দীগ্রাম: একুশের নির্বাচনের ভরকেন্দ্র। এই কেন্দ্রে প্রচারে ফাঁকি রাখেনি কোনও পক্ষই। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে একেবারে পিছিয়ে নেই শুভেন্দু অধিকারীও।

চণ্ডীপুর:  লড়াইয়ে সামান্য এগিয়ে ঘাসফুল শিবির।

পশ্চিম মেদিনীপুর

নারায়ণগড়: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এদিকে বিজেপির প্রার্থীও প্রাক্তন তৃণমূলী। ফলে স্থানীয় মানুষ কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে।

সবং: ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়া। পিংলা: একপেশে লড়াইয়ে এগিয়ে বিজেপি।

খড়গপুর: তারকা প্রার্থীর প্রচারের জেরে মাইলেজ পেয়েছে বিজেপি। তারপরেও সামান্য এগিয়ে তৃণমূল।

ডেবরা:  লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ।

দাসপুর: এই কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের পথে কাঁটা হতে পারে আমফান দুর্নীতি।

ঘাটাল: তৃণমূলের শংকর দোলুই, বিজেপির শীতল কাপাট ও বামেদের কমল দোলুইয়ের কড়া টক্কর। তবে নির্বাচনী অঙ্কের নিরিখে খানিকটা এগিয়ে বিজেপি। ঘাসফুল শিবিরের জয়ের পথে কাঁটা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ।

চন্দ্রকোণা: তৃণমূলের দুর্নীতি কাঁটা বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছে এই কেন্দ্রে।

কেশপুর: তৃণমূলের গড়। রিপোর্ট বলছে, একপেশে লড়াইয়ে বাজিমাত করবে ঘাসফুল শিবির। তবে বিজেপিরও চোরা হাওয়া রয়েছে।

বাঁকুড়া

তালডাংরা: ঘাস ও পদ্মের লড়াইয়ে বাজিমাত করতে পারেন সিপিএম প্রার্থী মনোরঞ্জন পাত্র।

বাঁকুড়া: এই কেন্দ্রে উগ্র হিন্দুত্বের একটা হাওয়া রয়েছে। পাশপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সংগঠনও মজবুত। ফলে এই দুই বিষয়ের বিশেষ সুবিধা পেতে পারে বিজেপি। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, এই কেন্দ্রে ঘাসফুলের সঙ্গে কড়া টক্কর দেবে গেরুয়া শিবির।

বড়জোড়া: গেরুয়া শিবিরের নিজস্ব ভোট রয়েছে। তবে দুই বিরোধীকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন তৃণমূল প্রার্থী।

ওন্দা: এই কেন্দ্রে মাইলেজ পেতে পারে গেরুয়া শিবির।

বিষ্ণুপুর: বিজেপি প্রার্থী তন্ময় ঘোষ তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে গোঁজ প্রার্থী দিয়েছে আদি বিজেপি। ফলে কঠিন লড়াইয়েও ভোট কাটাকাটির সুবিধা পেতে পারেন তৃণমূল প্রার্থী অর্চিতা বিড।

কোতুলপুর:  গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, এই কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি কংগ্রেসের লড়াই।

ইন্দাস:  এই কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের মজবুত সংগঠন।

সোনামুখী: লোকসভায় এই কেন্দ্রে প্রবল গেরুয়া হাওয়া ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উপর ভিত্তি করে কড়া টক্কর দিতে তৈরি প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলকুমার সাঁতরাও। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

আরও পড়ুন- ভোটে জিততে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে টাকা বিলি করছে বিজেপি, বিস্ফোরক দাবী মমতার 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা

গোসাবা: তৃণমূলের শক্তঘাঁটি গোসাবা। উন্নয়ন, সংগঠনের উপর ভরসা করে সহজেই জয়ের বৈতরণী পার করতে পারে ঘাসফুল শিবির।

পাথরপ্রতিমা: বাকি দুই প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী সমীরকুমার জানা।

কাকদ্বীপ: এই কেন্দ্রের মানুষ পরিবর্তন চাইছে না বলেই দাবি। লড়াইয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। তাঁর জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। পাশাপাশি এই কেন্দ্রে উন্নয়ন করেছে তৃণমূল। ফলে লড়াইটা কার্যত একপেশে।

সাগর: তৃণমূল প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। আর সেই ক্ষোভটাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। আমফানের দুর্নীতি কাটা ভাবাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। ফলে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

RELATED Articles