আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্য এখন উত্তাল। তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জাল যেন কাটতেই চাইছে না। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুতে ন্যায় বিচারের দাবী নিয়ে যখন সরব নানান মহলের মানুষ, সেই সময় দাঁড়িয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানান অসঙ্গতি উঠে আসছে।
তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা আগেই জানিয়েছিলেন যে তাদের হাসপাতালের তরফে ফোন করে বলা হয়েছিল যে তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আসল সত্যিটা তখনও জানতেন না হতভাগ্য মা-বাবা। এবার জানা গেল, সেদিন তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবাকে আর জি করের আইসি-ও ফোন করেছিলেন। কী জানিয়েছিলেন তিনি তাদের? সামনে এল সেদিনের তাদের সেই কথোপকথনের অডিও।
হাসপাতালের তরফে মোট তিনবার ফোন করা হয়েছিল নির্যাতিতার মা-বাবাকে। সেই তিনবার ফোনের অডিও ক্লিপই এসেছে প্রকাশ্যে। প্রথম অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, হাসপাতালের তরফে নির্যাতিতার মা-বাবাকে ফোন করে বলা হয়, তাদের মেয়ে অসুস্থ। তিনি আগের থেকেই অসুস্থ ছিলেন কী না, তাও জিজ্ঞাসা করা হয়। যিনি ফোন করেছিলেন,। ফোনে তাঁর গলা বেশ নির্লিপ্তই শোনা যাচ্ছে।
এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে দ্বিতীয় ফোন। সেই ফোনে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, তাদের মেয়েকে এমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা নাকি তাঁকে দেখছেন। এই বলেই কেটে দেওয়া হয় ফোন। আর এরপর হাসপাতাল থেকে যায় তৃতীয় ফোন। সেই ফোনে নির্যাতিতার মা-বাবাকে জানানো হয়, যিনি ফোন করছেন তিনি হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার। এক মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা যায়। সেই ফোনে মা-বাবাকে জানানো হয়, তাদের মেয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে। হয়ত তিনি ‘মারা’ গিয়েছেন। ঠিক এইভাবেই নির্যাতিতার মা-বাবাকে দেওয়া হয় তাদের মেয়ের খবর। মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের গলায় কোনও দুঃখ বা ভাব প্রকাশ পায়নি এই খবর দেওয়ার সময়। নির্লিপ্তভাবেই এই কথা জানান তিনি।
কিন্তু সবথেকে বড় প্রশ্ন, সেমিনার রুমে তরুণী চিকিৎসকের নিথর-ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখেও কেন মা-বাবাকে প্রথমে তাদের মেয়ে অসুস্থ, তারপর এমারজেন্সিতে ভর্তি ও সর্বশেষে জানানো হল যে তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। কেনই বা মহিলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে দিয়ে ফোন মা-বাবাকে? হাসপাতালের অধ্যক্ষ বা পুলিশের তরফে কেন একথা জানানো হল না? কেন আত্মহত্যার তত্ত্ব খাঁড়া করা হল, তা নিয়ে উঠছে অনেক প্রশ্ন।
এবার এরই মধ্যে জানা গেল, সেদিন আর জি করের আইসিও ফোন করেছিলেন নির্যাতিতার মা-বাবাকে। আসলে সমস্ত সরকারি হাসপাতালের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট থাকে। সেখান থেকেই করা হয়েছিল ফোন সেদিন আইসি ফোন করে নির্যাতিতার মা-বাবাকে জিজ্ঞাসা করেন তারা হাসপাতালে আসছেন কী না। তারা জানান, তারা রাস্তায় আছেন। এরপর আইসি-কে বলতে শোনা যায়, “আপনারা আসুন। কথা হবে। আরজি করের চেস্ট ডিপার্টমেন্টের এইচওডি-র কাছে আসুন। কথা হবে”। একথা শুনে ফোনের ওপারে কেঁদে ফেলেন নির্যাতিতার মা। প্রশ্নও করেন কী হয়েছে তাঁর মেয়ের। কিন্তু আর কোনও জবাব দেন নি সেই পুলিশ আধিকারিক।
শুনে নিন সেই অডিও ক্লিপঃ
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুর সময় নিয়ে বড় অসঙ্গতি, মিল নেই তরুণী চিকিৎসকের ডেথ সার্টিফিকেট ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মৃত্যুর সময়ের মধ্যে, কী ঘটেছিল সেই রাতে?
অর্থাৎ পুলিশের তরফেও নির্যাতিতার মা-বাবাকে আসল সত্যিটা জানানো হয়নি। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়েও মা-বাবা জানতেন না যে তাদের মেয়ের সঙ্গে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এই সবকিছুর মধ্যে প্রশ্ন একটাই, কেন মা-বাবার থেকে গোপন করা হয়েছিল তাদের মেয়ের মৃত্যুর কারণ। কেনই বা হাসপাতালের তরফে প্রথমেই আত্মহত্যা বলা হল তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুতে। সেই উত্তরের অপেক্ষায় সকলেই।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!