পদ, বন সহায়কের! শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন অষ্টম শ্রেণী! আবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষক ডিগ্রিধারীরা!

বাংলায় সরকারি চাকরির (West Bengal Government Job) বাজারে যে ঠিক কতটা মন্দা তা ফের চোখের সামনে দেখা দিল। এই ছবি স্পষ্ট করল বাংলায় সত্যিই চাকরি নেই। যে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা; অষ্টম শ্রেণি পাশ সেখানেই আবেদনপ্রার্থীদের অধিকাংশই; গবেষক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ! ২,০০০ শূন্যপদের জন্য জমা পড়ল কয়েক লক্ষ আবেদন। কাজটা কি? পদ, বন সহায়কের। অষ্টম শ্রেণি পাশ যোগ্যতার ফরেস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর চাকরিতে; আবেদন করেছেন বহু গবেষক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। ঘটনা খাস পশ্চিমবঙ্গের। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই; বাংলার চাকরির বাজারের হাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি।

এই বিষয়ে কি বলছে বন দফতর (Forest Department)? সূত্র মারফৎ জানা গেছে; সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বেতনে চুক্তিভিত্তিক পদে; নিযুক্তদের মূল কাজ, বনভূমি রক্ষা, হাতি তাড়ানো; গাছ কাটার খবর পেলে সেখানে নজরদারি চালানো প্রভৃতি। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলায় স্থায়ী বসবাসকারী; শুধু নিজের জেলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র বাছাইয়ের কাজ শেষ হলে; প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকা হবে।

এই পদটিতে আবেদনকারী প্রার্থীদের; বাংলা বা রাজ্যের কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত ভাষা পড়ার (৩০ নম্বর); এবং লেখার (৩০ নম্বর) জন্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও, ইংরাজি বা হিন্দি পড়ার দক্ষতা (১০ নম্বর); সাধারণ জ্ঞান (২০), এবং বন বিভাগের কাজের জন্য; শারীরিক দক্ষতার (১০) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন; “গবেষকদের মতো উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরা; এত কম যোগ্যতার চাকরিতে আবেদন করলে; আমরা কি করতে পারি! আমরা তাঁদের আবেদন করতে; বারণও করতে পারছি না”।

কিন্তু এত কম মানের পদে এত উচ্চশিক্ষিতের ভিড় কেনও? বাণিজ্য শাখায় স্নাতক এক আবেদনকারীর কথায় “চাকরির যা বাজার; তাতে এখন আর বাছবিচার করার অবস্থা নেই”। এক আবেদনকারী বলেছেন, “পিএইচডি করছি, এসএসসি-তে চাকরি পাইনি। তাই এখানে আবেদন করেছি”। এক আবেদনকারী বলেছেন; “ইতিহাসে মাস্টার্স করেছি; চাকরি পাই নি। বয়স চলে যাচ্ছে; একটা সরকারি চাকরি দরকার। তাই বাছবিচার আর নেই”।

এই অবস্থায় বিরোধী বিজেপি, বাম ও কংগ্রেস বলছে; “কোনও কাজই ছোট নয়। কিন্তু রাজ্যের বেকারদের জন্য; কাজের বাজার কেমন; তা এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন; “রাজ্যে চাকরি থাকলে; এখানকার শিক্ষিতদের ভিন রাজ্যে ছুটতে হত না। গবেষকদের ক্লাস এইট পাশ চাকরিতে ঢুকতে হত না। চাকরি যে নেই, তা এই তথ্যেই পরিষ্কার। উক্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি; বন দফতর ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা।

RELATED Articles