ভোটের মুখে হাইকোর্টে মুখ পুড়লো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে চলা মামলা প্রত্যাহার সিদ্ধান্তে হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। নন্দীগ্রাম ইস্যুতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি এন রাধাকৃষ্ণণের পর্যবেক্ষণ, ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার জঘন্যতম অপরাধ। ভোটের আবহে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন-WB Election 2021: চমকে ভরা বিজেপির ব্রিগেড, ৭ই মার্চ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন শতাব্দী রায়!!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ২০০৭ সালে, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে প্রায় ৩০৩ জন তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে বেশ কিছু মামলা রুজু হয়। ফৌজদারি মামলা ছিল রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও বেচারাম মান্নার বিরুদ্ধেও। সেই মামলাই চলতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রত্যাহার করতে চায় রাজ্য। সম্প্রতি এই অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি তাঁর আবেদনে বলেন, ১৩ টি ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
কিন্তু আসন্ন ভোট আবহে সেটি কীভাবে সম্ভব? তাঁর বক্তব্য, এই ভাবে বাকি জায়গা থেকেও যদি ফৌজদারি মামলা তুলে নেওয়া হয়, তাহলে বাকি মামলাগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে? ফৌজদারি মামলা অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলা, সে ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ কীভাবে করতে পারে রাজ্য সরকার? দ্রুত যাতে তাঁর মামলা শোনা হয়, সে বিষয়েও হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই ব্যক্তিl
এদিন আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। আবেদন শোনার সময়ই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘এটি জঘন্যতম অপরাধ।’ আগামী শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। তবে এটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারই প্রধান বিচারপতির ঘরেই বুধবার নতুন করে আনিসুর রহমানের মামলার শুনানি রয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই বার্তা দেওয়া ছাড়া উপায়ও নেই মমতা তথা ঘাসফুল নেতৃত্বের। এখানে নন্দীগ্রামের গড় রক্ষাই বড় কথা নয়, বিষয়টি তার চেয়েও গুরুতর। এই নন্দীগ্রামেই ৩৪ বছরের বাম শাসনের বীজ পোঁতা হয়েছিল। এই নন্দীগ্রামেই রচনা হয়েছিল তৃণমূলের উত্থানের এবার সেখানেই ঘাসফুলের পতাকাতলে সমবেতদের রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ মমতার।
আর যার মূল কারণ প্রায় সবারই জানা। নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদা বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী দল বলেছেন। নন্দীগ্রাম জিততে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী সেখান থেকেই প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা করেছেন। শোনা যাচ্ছে, দ্বৈরথ হতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই।
নন্দীগ্রামের লড়াই এখন তৃণমূলের কাছে ইমেজ রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার