আজব ব্যাপার! পুরোহিত ভাতাতেও শাসকের দুর্নীতি,তালিকায় নাম নেই খোদ পুরোহিতদেরই!

আর্থিক দুর্নীতিতে জর্জরিত বাংলার শাসক দল। আমফানে ব্যাপক আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল তৃনমূলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে। সরব হয়েছিল রাজ্যের প্রায় সমস্ত বিরোধী দল গুলিই কিন্তু এত কিছুতেও দুর্নীতির অভ্যাসে বদল এলোনা শাসকের।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamta Banerjee) আসন্ন ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে পদ্মশিবিরের (Bharatiya Janata Party) হিন্দু ভোট বাঙ্কে একপ্রকার ভাঙন ধরাতে রাজ্যে ইমামদের সঙ্গে পুরোহিতদেরও ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলার ৮ হাজার পুরোহিতদের মাস গেলে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আর এবার মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণার পর পুরোহিতদের তালিকা প্রকাশ হতেই দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে ২১ জন পুরোহিতের তালিকা প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই তালিকায় পুরোহিতই নন এমন কয়েকজনের নাম আছে। আর তাঁরা সবাই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেস থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, আমফানের মতই পুরোহিত ভাতা নিয়েও দুর্নীতি করছে শাসক দল। আমফানে যেমন ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে তৃণমূল নেতা, ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে টাকা ধুকেছিল, তেমনই পুরোহিত ভাতা নিয়েও হচ্ছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কংগ্রেসে নেতার কথায় এলাকার পুরোহিতদের সেই তালিকায় নাম নেই, কিন্তু তৃণমূল (All India Trinamool Congress) কর্মী এবং ঘনিষ্ঠরা সেই তালিকায় নাম করে নিয়েছেন। কংগ্রেস নেতার এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এলাকার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস ঘটনার তদন্ত করাবেন বলে জানিয়েছেন।

সেইসঙ্গে অভিযোগ জমা পড়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের তরফেও। বিজেপির সংখ্যালঘু নেতা ফেসবুকে একটি পোস্ট করে নদিয়া জেলার পুরোহিতদের তালিকা দেখিয়েছেন, সেখানে কয়েকজন আছেন যারা ব্রাহ্মণ সমাজে অন্তর্ভুক্ত না। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, নদিয়া জেলার তৃণমূল নেত্রীর আত্মীয়দের পুরোহিতদের তালিকায় ঠাই দেওয়া হয়েছে এবং সেখানেও অনেকে আছেন অব্রাহ্মণ!

RELATED Articles