গতকালই প্রকাশিত হয়েছে ত্রিপুরা পুরভোটের ফলাফল। সেখানে বিরোধী দলগুলিকে ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়ে ৯৮.৫০ শতাংশ আসনে জয়লাভ করেছে বিপ্লব দেবের সরকার। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল কে হয়েছে সেই নিয়ে বেঁধেছে গন্ডগোল। তৃণমূল দাবি করেছিল তারা সর্বমোট ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল ত্রিপুরায়। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে তাদের সেই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।
গতকাল অভিষেক ব্যানার্জি, রাজীব ব্যানার্জি, দেবাংশু ভট্টাচার্য সহ তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য মুখরা প্রেস কনফারেন্স এবং সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন তারা মাত্র তিন মাসের লড়াইতে পুর ভোটের নিরিখে ত্রিপুরায় ২৪% ভোট পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের ক্ষমতা লাভ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে যখন আমাদের টিম এই বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে যায় তখন দেখা যায় যে তৃণমূলের দাবির সঙ্গে তথ্য মিলছে না। ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশন সুত্র বলছে গতকাল পুরভোটে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বামফ্রন্ট। তারা পেয়েছে ১৯.৬৫ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনী ফলাফলে ভোটের হারে বিজেপি ৫৯.০১ শতাংশ, বামফ্রন্ট ১৯.৬৫ শতাংশ, তৃণমূল কংগ্রেস ১৬.৩৯ শতাংশ, কংগ্রেস ২.০৭ শতাংশ, অন্যান্য ও নির্দল ১.১৮ শতাংশ এবং নোটা ১.৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছে৷
পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনে বিজেপি উদয়পুর, শান্তিরবাজার, মোহনপুর, রানিরবাজার, কমলপুর এবং বিশালগড় পুর ও নগর সংস্থায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে৷ এছাড়া, খোয়াই-এ ৭-টি আসনে, জিরানিয়ায় ১০টি আসনে, ধর্মনগরে ১-টি আসনে এবং মেলাঘরে ২-টি আসনে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে৷ গতকাল মোট ২২২টি আসনে নির্বাচনের গণনা হয়েছে৷ তাতে বিজেপি ২১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে, জয়ের হার ৯৭.৪ শতাংশ৷ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় মিলিয়ে ৩৩৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩২৯টি আসনে জয় হাসিল করেছে, জয়ের হার ৯৮.৫০ শতাংশ৷
ত্রিপুরায় মোট ২২২ টি ওয়ার্ডে ভোট হয়েছিল। তারমধ্যে ২১২টি তে লড়াই করে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে বামফ্রন্ট এবং ১৪৯টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিআইএম। তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৫৬ টি আসনে।
আগরতলা পুরনিগমের ৫১ টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। এরমধ্যে বামফ্রন্ট ৪৬টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট চব্বিশটি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ২৭টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে।অর্থাৎ এই তথ্যগুলি থেকেই প্রমাণিত তৃণমূল যে দাবি করেছে তারাই প্রধান বিরোধীদল ত্রিপুরাতে সেই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।





