একটা সময় রাজনীতির আঁচ ততটা অনুভব করা যেত না শিল্পাঞ্চলে। তবে সময় বদলেছে। আজকের দিনে শিল্পাঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা মানেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা। বিশেষত, যেখানে কয়লা ও কেমিক্যাল শিল্প ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা, সেখানকার নেতাদের গুরুত্বও তেমনই। সম্প্রতি সেই শিল্পাঞ্চল ঘিরেই তোলপাড় শুরু রাজনীতির অন্দরে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তৃণমূল এবার শিল্পাঞ্চলগুলিকে ‘স্পেশাল নজরে’ রাখতে চাইছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এই মনোভাব? একদিকে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজর—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে চাপা অসন্তোষ। বিশেষ করে বীরভূম মডেলে কাজ করে যে লাভ হয়েছে, এবার সেটাকেই কি রাজ্যের অন্য শিল্পাঞ্চলেও প্রয়োগ করতে চাইছে শাসকদল? প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্ব কমানো হচ্ছে পরিকল্পনা মাফিক?
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফর শেষে শিল্প সংক্রান্ত বৈঠকের পরই রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে নতুন কোর কমিটি গঠনের ঘোষণা করে তৃণমূল। পশ্চিম বর্ধমান ও তমলুক জেলার শিল্পাঞ্চলের জন্য পৃথক কমিটি তৈরি হয়, যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এখানেই চমক। পশ্চিম বর্ধমানের আইএনটিটিইউসি সভাপতি অভিজিৎ ঘটক—যিনি মলয় ঘটকের ভাই—তাঁকে রাখা হয়নি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের নতুন কোর কমিটিতে।
দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মানস অধিকারী, রাজেশ কোনার, সুশান্ত রায়, লিটন সরকার, অভিষেক দে, হরদীপ সিং, দেবব্রত কেশ, পূর্ণ নন্দ চট্টোপাধ্যায়, শেখ আমিনুর রহমান ও আকবর আলি। অন্যদিকে, তমলুক তথা হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের কোর কমিটিতে রয়েছেন আস্তিক চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ দে, অসীম মাজি, শঙ্কর দণ্ডপাত, শ্যামল মাইতি, সুদীপ্ত ভক্ত, শেখ আলমগীর ও আলম জিলানি। তবে তমলুকের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতিকে রাখা হয়নি এই কোর কমিটিতে। অর্থাৎ জেলা কমিটি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়েছে এই দুই শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো।
আরও পড়ুনঃ Weather update: দিনভর মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি ! বঙ্গে টানা চলবে ঝড়বৃষ্টি!
তৃণমূলের এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে। কয়লা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো মলয় ঘটক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রভাব কমাতেই কি এই কৌশল? কেন্দ্রীয় সংস্থার একাধিকবার তলব ও তল্লাশি তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বারবার। তাই কি এবার নেতৃত্বের রদবদলের ছত্রছায়ায় সাফাই অভিযানে নামল শাসকদল? স্থানীয় নেতাদের একাধিপত্য ভাঙতেই কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কোর কমিটির মাধ্যমে রাজ্যের দুই শিল্পাঞ্চলকে কড়া নজরে রাখার সিদ্ধান্ত? উত্তর সময় দেবে, তবে আপাতত তৃণমূলের এই রদবদল ঘিরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চল রাজনীতি।






