বাড়ির পরিচারিকাকেও টিকিট দিয়েছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী, টাকা দিয়ে টিকিট বিলি, অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেতাদের একাংশই

ফের একবার প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল বলাগড়ে। টাকা নিয়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যারা বিজেপি করেছেন এমনকি জেলখাটা দুষ্কৃতীদেরও টিকিট দেওয়ার অভিযোগ। শনিবার ব্লক সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে এমন অভিযোগ উঠলে শোরগোলের জেরে ভেস্তে যায় বৈঠক।

সূত্রের খবর, শাসকদলের যখন থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তখন থেকেই বলাগড়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে দেখা যাচ্ছিল। অনেকেই শেষদিনে মনোনয়ন পেশ করছেন। কানাঘুষো শোনা যায়, ভিতরে ভিতরে অনেকেই প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন পেশ করতে চাইছিলেন। কিন্তু উচ্চ নেতৃত্বের তরফে সাফ জানানো হয় যে দল যাদের টিকিট দিয়েছে তারাই প্রার্থী হবে। ফলে টিকিট না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ওঠে চরমে।

এরপর গতকাল, শনিবার বলাগড়ের জিরাটে ব্লক সভাপতি নবীন গঙ্গোপাধ্যায় একটি বৈঠক ডাকেন। সেখানেই ক্ষোভ উগড়ে দেন টিকিট না পাওয়া প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বলাগড় পঞ্চায়েত সমিতির গত বোর্ডের ছ’জনকে প্রার্থী করা হয়নি। এমনকি তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রধান, উপ-প্রধান, ব্লক সভাপতি, সহ-সভাপতিও। আর এসবের পিছনে রয়েছেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী।  

এদিন বৈঠকে নবীন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এলাকার দুষ্কৃতী, বিজেপি থেকে আসা ব্যক্তি, এমনকী দল করেনি এমন লোকও টিকিট পেয়েছে। তাঁদের টিকিট দিয়েছে বিধায়ক। আর যে কর্মীরা সারা বছর কাজ করে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। দলকে সব জানিয়েছি। তবে নেত্রীর উপর আস্থা আছে আমাদের”।

বলাগড় ব্লক সাধারণ সম্পাদক সুজয় চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে টাকা নিয়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে। বিধায়কের বাড়িতে যে ঝাড় দেয় তাঁকেও প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, খাদ্য কর্মাধক্ষ্য তথা বলাগড় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বাদল সরকার বলেন, “প্রথম থেকে দল করছি। প্রতিবছরই টিকিট নিয়ে এই ধরনের গন্ডগোল হয়। বাইরে সিপিআইএমের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। আর ভিতরে দলের টিকিট নিয়ে লড়াই করতে হয়। তবে এবারে পঞ্চায়েতে যেভাবে প্রার্থী করা হয়েছে দলের কর্মীদের কথা শোনা হয়নি”।

যাকে নিয়ে এত অভিযোগ, সেই মনোরঞ্জন ব্যাপারী এই বিষয়ে জানান, “২৩৮ টা গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনের মধ্যে ৯০টি আসন আমি দিয়েছি। যাঁরা আমাকে জেতাতে সাহায্য করেছিল তাঁদের দেওয়া হয়েছে। এক টাকাও নিইনি এর জন্য। আর টাকা নিয়ে টিকিট দিয়েছে ব্লক সভাপতি। যাঁদের থেকে টাকা নিয়েছে তাদের টিকিট দিতে পারছে না বলে এসব বলছে। বিজেপিকেও টিকিট ওরাই দিয়েছে”।

এই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিজেপি। রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, “নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে বিজেপির নাম বলছে। বিজেপি নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলাগড়ের সব পঞ্চায়েতে রয়েছে। বিধায়ক বনাম ব্লক সভাপতি একে অপরের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রার্থী করার অভিযোগ করছেন। এতে পরিষ্কার তৃণমূল কতটা স্বচ্ছ”।

RELATED Articles